নজরবন্দি ব্যুরো: খুঁটিপুজো হয়ে গিয়েছিল, পুজোর প্রস্তুতিও শুরু হয়েছিল জোরকদমে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দখলদারির বিবাদ এবং বিজেপি নেতাদের ‘চাপ’-এর অভিযোগে বন্ধ হওয়ার মুখে উত্তর কলকাতার ৯৪ বছরের দুর্গাপুজো। কেশবচন্দ্র সেন স্ট্রিটের ইয়ং মেন্স স্পোর্টিং অ্যাসোসিয়েশন (Young Men’s Sporting Association)-এর পুজো কমিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘দুঃখজনক ঘোষণা’ দিয়ে জানিয়েছে, এ বছর তারা দুর্গাপুজোর আয়োজন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছে।
২৮ অগস্টের ওই ঘোষণায় পুজো কমিটির তরফে জানানো হয়েছে, চলতি বছর দুর্গাপুজো করার জন্য ‘খুঁটি পুজো’ করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তৈরি হওয়া ‘পারিপার্শ্বিক চাপ’-এর কারণে পুজো না করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে তারা।
পুজো কমিটির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও সকলের আবেগের সঙ্গে জড়িত এই পুজো এ বছর করতে না পারার জন্য তাঁরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। একই সঙ্গে সদস্য, শুভানুধ্যায়ী এবং এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমাও চাওয়া হয়েছে।

ঘটনার নেপথ্যে মূলত পুজোর দায়িত্ব ও কমিটি নিয়েই বিবাদ বলে অভিযোগ। গত কয়েক বছর ধরে যে কমিটি দুর্গাপুজোর দায়িত্ব সামলাচ্ছিল, চলতি বছর তাদের সরিয়ে অন্যদের জায়গা করে দেওয়ার জন্য চাপ তৈরি হচ্ছিল বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
প্রথম দিকে সেই চাপ উপেক্ষা করেই পুজোর প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে হুমকির অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠায় শেষ পর্যন্ত পুজো থেকেই সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পুরনো কমিটি।
কমিটির প্রাক্তন সদস্যদের বক্তব্য, প্রতি বছরের মতো এবারও স্থানীয় বিধায়ককে পুজোর প্রধান পৃষ্ঠপোষক করা হয়েছিল। পাশাপাশি বিজেপির একাধিক নেতাকেও পুজো কমিটিতে রাখা হয়েছিল। তাঁদের নাম উল্লেখ করে চলতি বছরের পুজোর ব্যানারও তৈরি ও টাঙানো হয়।

বিতর্কের সূত্রপাত, অভিযোগ অনুযায়ী, বিজেপির আরও কয়েকজন স্থানীয় নেতাকে পুজো কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে। তাঁদের নাম পুজোর ব্যানারে রাখার জন্য চাপ তৈরি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। পুরনো কমিটির সদস্যরা সেই দাবি মানতে রাজি হননি বলেই বিবাদ আরও বাড়ে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
এক প্রবীণ স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, ‘‘যাঁরা নতুন নতুন বিজেপি হয়েছেন, তাঁরাই পুজো বন্ধ করে দিতে চাইছেন। পোস্টারে ওঁদের নাম রাখতে হবে। ওঁদের আমরা রাখতে চাইনি।’’
বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও কোনও সমাধান হয়নি বলে দাবি ওই বাসিন্দার। এরপরই পুজো বন্ধ রাখার ঘোষণা করা হয়। তাঁর আরও অভিযোগ, ঘোষণার পরেও হুমকি আসতে থাকে।
পরিস্থিতির চাপে শেষ পর্যন্ত এতদিন ধরে পুজোর দায়িত্বে থাকা সদস্যরা সরে দাঁড়িয়েছেন বলেই দাবি সংশ্লিষ্টদের। তাঁদের জায়গায় নতুন গোষ্ঠীর হাতে পুজোর দায়িত্ব চলে গিয়েছে বলে স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য।
অর্থাৎ, খুঁটিপুজো থেকে প্রস্তুতি—সবকিছু শুরু হয়ে যাওয়ার পরেও ৯৪ বছরের পুরনো এই দুর্গাপুজো এবার আদৌ হবে কি না, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। পুজোর আগে উত্তর কলকাতার এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ, কমিটির নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় বিবাদের অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে।



