সপ্তাহের প্রথম দিনেই মুখ থুবড়ে পড়ল ভারতীয় শেয়ার বাজার। সোমবার বাজার খোলার পর থেকেই শুরু হয় ব্যাপক বিক্রির চাপ। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেনসেক্স ও নিফটি ৫০ দু’টিই উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে যায়। একদিকে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে সুদের হার নিয়ে নতুন আশঙ্কা—এই জোড়া ধাক্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা।
সোমবারের লেনদেনের শুরুতেই গ্যাপ-ডাউন দেখা যায় দুই প্রধান সূচকে। সকাল ১০টা নাগাদ নিফটি ৫০ প্রায় ০.৬৮ শতাংশ নেমে ২৪,০১১-এর কাছাকাছি চলে যায়। একই সময়ে বিএসই সেনসেক্স প্রায় ০.৫৮ শতাংশ কমে ৭৬,৮২৪-এর আশপাশে ঘোরাফেরা করছিল।
বাজারের এই পতনের পিছনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির বড় ভূমিকা রয়েছে। হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে অপরিশোধিত তেলের বাজারেও। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২.৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপিছু ৯০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। তেলের দাম বাড়লে ভারতের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি ও কর্পোরেট খরচ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নিয়ে আশঙ্কা। ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের কড়া মন্তব্যের পর আমেরিকায় ফের সুদ বাড়তে পারে বলে বাজারে জল্পনা তৈরি হয়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগের প্রবণতা কমেছে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে এশিয়ার বাজারগুলিতেও।
দেশীয় বাজারেও সেই চাপ স্পষ্ট। নিফটির ১৬টি প্রধান সেক্টরের সবকটিই লাল ছিল। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি সূচকে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যায়। স্মল ক্যাপ ও মিড ক্যাপ শেয়ারেও বিক্রির চাপ ছিল; উভয় সূচকই প্রায় ১ শতাংশ করে নেমেছিল।
বড় শেয়ারগুলির মধ্যেও একাধিক সংস্থার দর কমেছে। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারে প্রায় ১ শতাংশ পতন দেখা যায়। একই সঙ্গে ইনফোসিস এবং এলঅ্যান্ডটি-র মতো সূচক-নির্ধারক শেয়ারগুলিও বাজারের উপর চাপ বাড়িয়েছে। অন্যদিকে এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের শেয়ারে উল্টো ছবি দেখা যায় এবং শেয়ারটি প্রায় ১.৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল।
আজকের লেনদেনে আরও একটি বিষয় বাজারের নজরে রয়েছে—এমএসসিআই সূচকের পুনর্বিন্যাস। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের এমএসসিআই গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড সূচকে ওজন কমার সম্ভাবনায় শেয়ারে অতিরিক্ত বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে বলে বাজার সূত্রে খবর। একই দিনে নতুন ক্লোজিং সিস্টেমের কার্যকারিতাও পরীক্ষা হতে চলেছে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল ভারতীয় বাজার। সেনসেক্স ৩৩০.৯২ পয়েন্ট বেড়ে ৭৭,২৬৪.৫১-এ এবং নিফটি ৫০ ৮৪.৮০ পয়েন্ট বেড়ে ২৪,১৭৫.৬৫-এ বন্ধ হয়েছিল। কিন্তু সপ্তাহের প্রথম দিনেই সেই স্বস্তি কার্যত উধাও হয়ে গেল।
সব মিলিয়ে, সপ্তাহের শুরুতেই শেয়ার বাজারে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তার পিছনে শুধু দেশীয় কারণ নয়, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি, তেলের দাম এবং মার্কিন মুদ্রানীতির সম্ভাব্য পরিবর্তন—সবকটিই একসঙ্গে কাজ করছে। ফলে চলতি সপ্তাহে সেনসেক্স-নিফটির গতিপথে বিনিয়োগকারীদের নজর থাকবে এই তিন আন্তর্জাতিক ইস্যুর দিকেই।



