নজরবন্দি ব্যুরোঃ সূত্রধার রায়সাহেব! মুকুলের হাতধরে গঙ্গাপ্রসাদ সহ আরও ৮ বিজেপি নেতা এলেন তৃণমূলে। গতকালই জানা গিয়েছিল ডুয়ার্সের পদ্মবনে ধস নামিয়ে তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন আলিপুরদুয়ার বিজেপি জেলা সভাপতি। ভোটের ফলাফলের পর থেকেই ভাঙন অব্যাহত গেরুয়া শিবিরে। দক্ষিণবঙ্গে একনাগাড়ে দলবদল চলছে, তার মধ্যেই এবার বড়োসড়ো ভাঙ্গন উত্তরবঙ্গে। খোদ আলিপুরদুয়ার বিজেপির জেলা সভাপতি, সহ আরও ৮ বিজেপি নেতা আজ তৃণমূল ভবনে গিয়ে মুকুল রায়ের হাত ধরে যোগ দিলেন জোড়াফুল শিবিরে।
আরও পড়ুনঃ মালদা হত্যাকাণ্ডে লাগছে রাজনীতির রং, দিলীপের মতে রাজ্যকে আফগান, সিরিয়া বানাচ্ছেন মমতা!


২১ এর ভোটে বিজেপি বঙ্গে পদ্মফুল ফোটাতে বদ্ধপরিকর ছিল, আত্মবিশ্বাস ছিল পূর্ণ। তবে ফলাফলে দেখা গেছে সম্পূর্ন উল্টো। তৃণমূলের বিপুল সাফল্যের আগে থমকে গিয়েছে বিজপির রথের চাকা। রাজ্যের বিরোধী দল হিসেবে অবস্থান করছে গেরুয়া শিবির। তবে তার পর থেকে ভাঙন ধরেছে পদ্মবনে। ভোটের আগে দলবদলুদের দিয়ে যে পদ্মবন ভরে উঠেছিল, এবার সেই বন খালি হয়ে ভিড় বাড়ছে জোড়া ফুল শিবিরে।
শুধু দলবদলুরা ঘরে ফিরতে চাইছেন তা নয়, বিজেপির আগের একাধিক নেতা-কর্মীরা যোগ দিচ্ছেন তৃণ্মূলে। সেই পথ আরও প্রশস্ত হয়েছে মুকুল রায়ের ৪ সাল বাদ ঘরে ফেরায়। তাঁর পর থেকেই একাধিক নেতা লাইন দিচ্ছেন জোড়া ফুল শিবিরে প্রবেশের জন্য। আর সেখানে সামিল হচ্ছেন বহু বিজেপি নেতাও। এবার তৃণমূলে যোগ দিলেন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা। সঙ্গে আরও ৮ নেতা।
দক্ষিনবঙ্গের পর উত্তরবঙ্গে বিজেপির ভিতে ধস নামার কারন হিসেবে নেতা মন্ত্রীরা নিজেদের দলের সমীকরণের দিকে আঙুল তুলছেন। অনেকের মতে তাঁরা রাজি নন ‘বঙ্গভঙ্গ’ তত্বে। তাঁরা একমত নন উত্তবঙ্গকে আলাদা করার জন্য। বাংলার সঙ্গে যুক্ত ভাবেই থাকতে চান তাঁরা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে উত্তরবঙ্গ আলাদা করতে গিয়েই দলের পুরানো একাধিক নেতা মন্ত্রীকে দল থেকে হারাতে বসেছে গেরুয়া শিবির। তার উদাহরণ আলিপুরদুয়ারের বিজেপি জেলা সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা।


এদিকে তৃণমূলে যোগদানের পর গঙ্গাপ্রসাদের অভিমান, বিজেপি আমলই দেয় না জেলার নেতাদের। এই ক্ষোভ ভোটের ফল প্রকাশের পরও দেখা গিয়েছিল একাধিক জেলা নেতার কথায়। তাই এবার শোনা গেলাও আলিপুর দুয়ারের নেতার মুখে। তিনি জানিয়েছেন, ‘জেলার নেতৃত্বকে কখনই গুরুত্ব দেয় না বিজেপি। ভোটের আগে কাজ করলাম আমরা, আর আমাদেরই কোনও গুরুত্ব দেয়নি।’ সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, তিনি চাইলে ভোটের আগেই দলবদল করতে পারতেন। কিন্তু তা করেননি দলের কথা ভেবে, কঠিন লড়াই লড়ে দলকে পাঁচটা আসন দিয়েছেন বলে দাবী তাঁর। অভিমান, তার পরেও দল কোন গুরুত্ব দেয়না। তাই ভোটের পর দল ছেড়ে এসেছেন।
সূত্রধার রায়সাহেব! তিনি বলেছেন বিজেপি ধসের এই শুরু, শক্ত ভিত উত্তরবঙ্গের হাল এই, এবার গোটা রাজ্যে গেরুয়া শিবিরের ধস নামা শুধুই অপেক্ষা। মুকুল রায় গেরুয়া শিবির ছেড়ে আসার পরেই বলেছিলেন বিজেপির বহু নেতা যোগাযোগ করছেন তাঁর সাথে। যদিও গেরুয়া শিবিরের নেতারা রায়সাহেবের কথায় মাথা না ঘামালেও, গঙ্গাপ্রসাদের আগমনকে তারই সূত্রপাত বলে মনে করছেন অনেকেই।
গতকাল গঙ্গাপ্রসাদের তৃণমূল যোগ প্রসঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারি বলেছিলেন, ‘আমরা আরও বড় গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা তৈরি করব’। আজ শাসক দলে যোগ দিয়ে বিরোধী নেতার কথার জবাব দিয়েছেন গঙ্গাপ্রসাদ। শুভেন্দু ধিকারীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেছেন, ‘শুভেন্দু বাবু তো পদের লোভেই দলে এসেছেন। বিধানসভার টিকিট না দিলে, বিরোধী দলনেতা না করলে তিনি কি বিজেপিতে থাকবেন? এই তো দলে এলেন। বড়বড় কথা বলছেন এখন। আর বিজেপি এদের নিয়ে নাচানাচি করছে। নিজের দলের নেতাদের কোনও গুরুত্বই দেয় না।’







