নজরবন্দি ব্যুরোঃ বিষ খাওয়া ৩ শিক্ষিকার অবস্থা আশঙ্কাজনক, আজ সকাল পর্যন্ত খবর তেমনটাই। সূত্রের খবর মোতাবেক ৫ শিক্ষিকার মধ্যে ২ শিক্ষিকা ভর্তি NRS মেডিক্যাল কলেজে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের স্থানান্তরিত করা হয়েছে ICU’তে। অন্যদিকে বাকি তিন শিক্ষিকা ভর্তি রয়েছেন আরজিকরে।
আরও পড়ুনঃ আফগান থেকে ভারতে এসেছেন ৭৮ জন, করোনা পজেটিভ ১৬ জনের


তাঁদের মধ্যেও একজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় এই মুহুর্তে তিনিও ICU’তে, বাকি দু’জনের অবস্থান স্থিতিশীল। এসএসকে ও এমএসকের চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকরা নিজেদের দাবি নিয়ে শিক্ষক ঐক্য মঞ্চের সদস্যরা পথে নেমেছেন বেশ কয়েকদিন ধরেই। এর আগেই তাঁরা প্রতিবাদ করেছেন বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে।
তাতেও কোন লাভ হয়নি বলেই তাঁদের দাবি, অভিযোগ তাঁদের কথায় কোন কর্ণপাত করেননি শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। ্তার পরেই গতকাল বিকাশ ভবনের সামনে আন্দোলন করেন তাঁরা। দাবি ছিল প্রতিবাদ আন্দোলন করার জন্যেই ইচ্ছেকরে দূরে দূরে বদলি করা হচ্ছে তাঁদের। দক্ষিণবঙ্গের শিক্ষিকাকে পাঠানো হচ্ছে উত্তরবঙ্গে। তাঁদের প্রশ্ন, “আমাদের সামান্যতম বেতন দেয়। অথচ বাড়ি থেকে অত দূরে গিয়ে কাজ করতে বলছে। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় গিয়ে আমাদের পক্ষে কাজ করা কী ভাবে সম্ভব?”

বিষ খাওয়া ৩ শিক্ষিকার অবস্থা আশঙ্কাজনক, নিয়ে যাওয়া হয়েছে ICU’তে।
সেই কারণেই গতকাল বিকাশ ভবনের সামনে আন্দোলনে নামেন তাঁরা। সেখানেই পুলিশের সঙ্গে বচসা বাড়লে আচমকা কয়েকজন শিক্ষিকা বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পুলিশ সূত্রের খবর আন্দোলনকারীরা মূল ফটক পেরিয়ে প্রবেশে চেষ্টা করলে বাধা দেয় পুলিশ। সেখানেই চলে ধ্বস্তাধস্তি।


সূত্রের খবর এর পরেই আচমকা কয়েকজন শিক্ষিকা ব্যাগ থেকে বিষ বের করে তা খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। গতকাল থেকেই এই নিয়ে একপ্রকার উত্তাল পরিস্থিতি। গতকাল ঘটনার পরেই প্রথমে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বিধাননগর হাসপাতালে। সেখান থেকে পরিস্থিতি দেখে নিয়ে যাওয়া হয় দুই হাসপাতালে।

হাসপাতাল সূত্রের খবর ৪০-৫০ মিলিগ্রাম মত কীটনাশক তাঁদের শরীরে গিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লিভার, শ্বাসযন্ত্র। এদিকে যখন ৫ শিক্ষিকার বিষ খাওয়া প্রসঙ্গে উত্তাল রাজ্য, তখন ব্রাত্য বসু পয়েন্ট করে এক লম্বা চওড়া পোস্ট করেছেন নিজের ফেসবুক ওয়ালে।
এমএসকে, এসএসকে শিক্ষিকাদের বাম আমলের সুবিধা আর মমতা সরকারের জামানায় পাওয়া সুবিধার তুলনা করেছেন। পয়েন্ট করে লিখেছেন একাধিক বিষয়। পোস্টে ব্রাত্য বসু লিখেছেন, ‘বাম সরকারের আমলে পঞ্চায়েত এবং গ্রামোন্নয়ন বিভাগের অধীনে SSK এবং MSK-র সহায়ক/সহায়িকা, সম্প্রসারক/সম্প্রসারিকারা নামমাত্র সাম্মানিক-এর বিনিময়ে কাজ করতেন। কাজের নিশ্চয়তা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং অবসরকালীন সুযোগসুবিধা বলে কিছু ছিলো না।’
তার পরেই তিনি একে একে তুলনা করে লিখেছেন তৃণমূল জামানায় কী কী সুবিধা পান শিক্ষিকারা। এবং সর্বশেষে লিখেছেন, ‘তারপরেও যারা আন্দোলন করছেন, তারা শিক্ষক শিক্ষিকা নন, বিজেপি ক্যাডার।’ আর শিক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। নিজেদের দাবিতে পথে নামা শিক্ষিকাদের প্রতি নূন্যতম সমবেদনা না জানিয়ে তিনি যেভাবে বিজেপি ক্যাডার বলেছেন তাতে ক্ষুব্ধ একাংশ।

অন্যদিকে গোটা ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ তাঁর ট্যুইটার হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “SSK ও MSK 1/3: সবাই সুস্থ হয়ে উঠুন। কারুর রাজনৈতিক প্ররোচনায় পা দেবেন না। বিবেচনায় রাখুন বাম আমলে পঞ্চায়েত দপ্তরে উপেক্ষিত, অনিশ্চিত ছিলেন। অবসরকালীন সুবিধে ছিল না। কিন্তু, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে 1/12/2020 থেকে বিদ্যালয় শিক্ষায় এনে সুসংহত চেহারা দেওয়া হয়েছে।”







