নজরবন্দি ব্যুরোঃ জন্মাষ্টমীর দিনে ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটল নামখানা (Namkhana)। বঙ্গোপসাগরের গভীরে ইলিশ ধরতে গিয়ে শুক্রবার নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে একটি ট্রলার। এই ঘটনায় নিখোঁজ কাকদ্বীপ-নামখানা এলাকার ১৮ জন মৎস্যজীবী। স্থানীয় সূত্রের খবর, এফবি সত্যনারায়ণ নামে ওই ট্রলারটি নামখানা থেকে বুধবার রওনা দেয় মাছ ধরার জন্য। মাছ ধরে ফেরার সময় খারাপ আবহাওয়ার মুখে পড়ে ট্রলারটি। ঝড়ের কারণে সুন্দরবনের কেঁদো দ্বীপের কাছে সেটি ডুবে যায়।
আরও পড়ুনঃ রাইস মিলে অনুব্রতর একাধিক গাড়ি, রহস্য খুঁজছে সিবিআই


গত ১৬ অগস্ট কাকদ্বীপ মৎস্যবন্দর থেকে বঙ্গোপসাগরের গভীরে ইলিশ ধরতে গিয়েছিল এফবি সত্যনারায়ণ নামের ট্রলারটি। ১৭ তারিখের মধ্যে কিনারায় ফিরে আসার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। বার্তা পেয়ে ফেরার সময় কেঁদো দ্বীপের অদূরে দুর্ঘটনায় পড়ে ট্রলারটি। কাকদ্বীপ মৎস্যজীবী ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন সূত্রের খবর, আবহাওয়া সতর্কবার্তা পাওয়ার পরেই ফেরার সময় সুন্দরবন ব্যাঘ্রপ্রকল্পের অন্তর্গত কেঁদো দ্বীপের কাছে ডোবা চরে ধাক্কা খেয়ে ট্রলারটি ডুবে গিয়েছে।

জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরের কেঁদো দ্বীপের থেকে ১০-১২ কিমি দূরে হঠাৎই উল্টে যায় ওই ট্রলারটি। ওই ট্রলারে ছিল অন্তত ১৭-১৮ জন মৎস্যজীবী। যদিও এখনও কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সবাই বেঁচে আছে না মারা গেছেন তাও খবর পৌঁছায়নি। উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। প্রশাসন, কোস্ট গার্ডের রক্ষীরা মিলে সমুদ্রে উদ্ধার চালাচ্ছে।
সে সময় জঙ্গলঘেরা ওই দ্বীপের কাছে আরও কয়েকটি ট্রলার আশ্রয় নিয়েছিল। সেগুলির কর্মীরাই নিখোঁজদের সন্ধান করছেন। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত উপকূলরক্ষী বাহিনী দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারেনি বলে মৎস্যজীবী সংগঠনের দাবি। বিজনের বক্তব্য, ‘১৭ তারিখের মধ্যে সব ট্রলারকে সমুদ্রতীরের কাছে চলে আসার বার্তা দেওয়ার পরেও ওই ট্রলারটি কেন তা করল না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’


আলিপুর আবহাওয়া দফতর দুদিন আগেই সতর্কতা জারি করে বলেছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া বইবে। এর জন্য দুই মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ বেশ কয়েকটি জেলাকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। মতস্যজীবীদের মাছ ধরতে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও ট্রলারটি মাছ ধরতে গেল কেন, তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
ইলিশের খোঁজে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে ডুবল ট্রলার, নিখোঁজ ১৮ মৎস্যজীবী

মৎস্যজীবী সংগঠনের কর্তা সতীনাথ পাত্র জানান, একটি ট্রলার ডুবে যাওয়ার খবর পেয়েছি। তবে ওই ট্রলারে থাকা কোনও মৎস্যজীবীর সঙ্গেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। প্রশাসন ও কোস্ট গার্ডকে খবর দেওয়া হয়েছে।
আরও জানা গেছে, খারাপ আবহাওয়ার জন্যই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই বছরই সমুদ্রপথে মাছ ধরতে গিয়ে প্রাণ হারান বহু মৎস্যজীবী। বিপদ জেনেও পেটের টানে পাড়ি দেন সমুদ্রে। আবহাওয়া ঠিক না থাকলেই বিপদ। হাওয়া ও জলের স্রোতে তলিয়ে যায় ট্রলারগুলি।







