যুবভারতীকাণ্ডে দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দিতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু

মেসি-দর্শন বিতর্কে যুবভারতীতে টিকিট কেটে ক্ষতিগ্রস্ত দর্শকদের টাকা ফেরাতে আদালতের অনুমতি চাইছে পুলিশ। আয়োজকদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত অর্থ থেকেই ফেরতের পরিকল্পনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসি-দর্শন ঘিরে সৃষ্ট অশান্তির পর অবশেষে দর্শকদের জন্য স্বস্তির খবর। টিকিট কেটে ক্ষতিগ্রস্ত দর্শকদের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য পুলিশ। এই ফেরতের জন্য আদালতের অনুমতি চেয়ে আইনি পথে হাঁটছে তদন্তকারী সংস্থা।

পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, দর্শকদের কাছে টিকিট বিক্রি করে আয়োজক সংস্থা প্রায় ১৯ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল। তদন্তে নেমে আয়োজক শতদ্রু দত্তের সংস্থা থেকে প্রায় ২২ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। নিম্ন ও উচ্চ আদালতে সওয়াল-জবাবের সময় এই বিষয়টি উল্লেখও করেছেন তদন্তকারীরা।

চলতি সপ্তাহে আলিপুর আদালত-এ শুনানির সময় আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানান, যুবভারতীতে লিওনেল মেসি-কে আনার নামে প্রায় ২৩ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক টিকিট কেটেছিলেন এবং সেই বিক্রি থেকেই ১৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল। পাশাপাশি, সেদিনের বিশৃঙ্খলায় প্রায় ২ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উল্লেখ্য, মেসিকে দেখার আশায় হাজার হাজার দর্শক যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন-এ উপস্থিত হয়েছিলেন। কিন্তু প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ঘটনার দিনই বিকেলে বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় আয়োজক শতদ্রু দত্তকে।

এরপর সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার স্পষ্টভাবে জানান, দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দিতেই হবে আয়োজকদের। অন্যথায় কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। যদিও এই পুরো ঘটনায় ডিজিপি-কেও শোকজের মুখে পড়তে হয়েছে।

পুলিশের এক কর্তা জানান, আদালতের অনুমতি মিললেই বাজেয়াপ্ত অর্থ থেকে ধাপে ধাপে দর্শকদের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। তদন্ত এখনও প্রাথমিক স্তরে রয়েছে, তবে ক্ষতিগ্রস্ত দর্শকদের স্বার্থ সুরক্ষাই এখন প্রশাসনের অগ্রাধিকার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত