বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘সহিংস আচরণের প্রতিক্রিয়া’ হিসেবেই ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে, এমন দাবি করল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। তাদের মতে, হাসিনার ভারতে বসে দেওয়া ‘প্ররোচনামূলক’ মন্তব্যের প্রভাবেই এই ঘটনা ঘটেছে।
শেখ হাসিনার বক্তব্যে ক্ষুব্ধ জনতা:


বুধবার রাতে, সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া শেখ হাসিনার ভাষণের পরেই রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডিতে শুরু হয় তীব্র বিক্ষোভ। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ির দিকে হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “হাসিনা, যিনি বর্তমানে ভারতেই বসবাস করছেন, জুলাই মাসে গণআন্দোলন নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তা ছিল প্ররোচনামূলক এবং ক্ষোভ উদ্রেককারী। এর ফলস্বরূপ জনতার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।”
গণহত্যার ক্ষত:
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হাসিনার বক্তব্যে ২০১৩ সালের ‘গণহত্যা’ সম্পর্কিত মন্তব্য জনমানসে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে, যা জনসাধারণের ক্ষোভ বাড়িয়ে দিয়েছে। হাসিনা তার ভাষণে শহিদদের অবমাননা করেছেন এবং এ ধরনের অসত্য মন্তব্য জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। এই প্রেক্ষিতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, এমন দাবি করে অন্তর্বর্তী সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা জানিয়েছে।


ভারতের প্রতি বার্তা:
বিবৃতিতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের প্রতি একটি বার্তা দিয়েছে, যাতে তারা নিশ্চিত করে, হাসিনার আর কোনো প্ররোচনামূলক বক্তব্য ভারতে বসে দেওয়া না হয়। তারা বলেছে, “ভারত যেন তার ভূখণ্ডকে বাংলাদেশের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে ব্যবহৃত হতে না দেয় এবং হাসিনাকে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেয়।”
ধানমন্ডিতে ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ড:
বুধবার রাতেই, ধানমন্ডিতে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির সামনে একটি ক্রেন এবং এক্সক্যাভেটর এনে বাড়ির ভাঙচুর শুরু করা হয়। রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ বাড়ির একটি অংশ ধ্বংস করা হয়। এরপর, শেখ হাসিনার প্রয়াত স্বামীর বাড়ি সুধা সদনেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।







