নজরবন্দি ব্যুরোঃ সাধের যুবশ্রী প্রকল্পেও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ মুখ্যমন্ত্রীর! হাহাকার লক্ষাধিক কর্মপ্রার্থীর।অল বেঙ্গল ইউথ ওয়েলফার অ্যাসোসিয়েশন গত ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২০ পশ্চিমবঙ্গের ২৩ টি জেলার ভাতাপ্রাপক যুবশ্রী কর্মপ্রার্থীরা শিয়ালদাহ রেল স্টেশনের বিপরীতে বিগবাজার থেকে শুরু করে রামলীলা ময়দান পর্যন্ত বিশাল পদযাত্রা করেন। সেই আন্দোলনের ফলস্বরূপ, একদিন পরেই গত ১৩ই ফেব্রুয়ারী ২০২০ তারিখে মুখ্যমন্ত্রী, দুর্গাপুর প্রশাসনিক বৈঠকে, বর্তমান শ্রম মন্ত্রী মলয় ঘটক মহাশয় কে নির্দেশ দেন যুবশ্রী প্রকল্প থেকে চাকরির কেন হচ্ছে না তা খতিয়ে দেখার জন্য। পাশাপাশি যাদের নাম বাদ পড়েছে যুবশ্রী থেকে অর্থাৎ যারা ভাতা পাচ্ছেন না তাঁদের একটা সুযোগ করে দেওয়ার কথাও বলেন।
আরও পড়ুনঃ আর মাত্র কয়েকদিন, তার পরেই মিলবে করোনার ভ্যাকসিন, জানিয়ে দিল রাশিয়া।


সাধের যুবশ্রী প্রকল্পেও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ মুখ্যমন্ত্রীর! যদিও কোন ফল পাননি যুবশ্রী কর্মপ্রার্থীগণরা। উত্তর না পেয়ে অল বেঙ্গল ইউথ ওয়েলফার অ্যাসোসিয়েশনের তরফে গত ১০ জুন-এ সারা পশ্চিমবঙ্গের বেকার কর্ম প্রার্থীরা বাড়িতে বসেই অনলাইনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ কর্মসূচি পালন করেন। অন্যদিকে বিশ্বমহামারীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে রাজ্য সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি ৩০ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়েছিলো।
অন্যদিকে গত ১০ই ফেব্রুয়ারির কর্মসুচির ফলস্বরূপ মুখ্যমন্ত্রী শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক কে যুবশ্রী নিয়োগের বিষয়ে এবং বন্ধ ভাতা চালুর বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছিলেন সেটা ছিলো মৌখিক মাত্র। তারপরে এবিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। ফলে ফের একটু অন্যরকম প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন বঞ্চিত রা। গত ১০ই জুন শ্রম দপ্তরের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে যুবশ্রী প্রার্থীরা নিজেদের দাবি কমেন্ট বক্সে তুলে ধরেন। পরে একই মাসের ২৫ তারিখে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিটি জেলায় ডেপুটেসশন দেওয়া হয়। যুবশ্রী কর্মপ্রার্থীদের স্বাক্ষর করা ডেপুটেশন পত্র জেলাশাসক থেকে শুরু করে জেলার সমস্ত কার্যালয় এবং রাজ্যের শ্রমদপ্তর মুখ্য কার্যালয় বিভাগীয় প্রধান এবং প্রধান সচিব থেকে মুখ্য সচিব এবং সর্বোপরি মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী কে অনলাইনে প্রদান করা হয়েছিল।
কিন্তু কোন সদুত্তর মেলেনি। তাই সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয় প্রত্যেকটি জেলা থেকে সেই জেলার বিধায়ক, সাংসদ, এবং রাজ্যের মন্ত্রীগণকে ২০১৩ সালে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুবশ্রী কর্মপ্রার্থীদের আর্তনাদের কথা স্মারকলিপি আকারে প্রদান করবেন।
সেইমতো সংগঠনের পক্ষ থেকে যুবশ্রী কর্মকর্তারা প্রথম কর্মসূচির গ্রহণ করেছিল বাঁকুড়া জেলায়। গত ১২ই জুলাই রাজ্যের মন্ত্রী শ্রী শ্যামল সাঁতরা কে দেওয়া হয় ডেপুটেশন। এইভাবে লকডাউন পরিস্থিতি তথা যানবাহন চলাচল অস্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রত্যেকটি জেলা থেকে যুবশ্রী কর্মপ্রার্থীরা একের পর এক বিধায়ক, সাংসদ ও রাজ্যের মন্ত্রীগনকে নিজেদের আর্তনাদের কথা তুলে ধরছেন যাতে যুবশ্রী ভাই বোনেরা নিজেদের যোগ্যতা অনুসারে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকারি চাকরি পায় এবং বেকার জীবন থেকে মুক্তি পায়।






সংগঠনের দাবি, কিছু বিভাগীয় দপ্তরের প্রধান এবং উক্ত দপ্তরের মন্ত্রী এবং কয়েকজন বিধায়ক আশ্বস্ত করেছেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ও যুবশ্রীর বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করবেন যাতে তাঁরা বেকার জীবন থেকে মুক্তি লাভ দিতে পারেন। উল্লেখ্য, বেশ কিছু জেলায় ইতিমধ্যে স্মারকলিপি প্রদান করে ফেলেছে অল বেঙ্গল ইয়ুথ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। পাশাপাশি সংগঠনের পক্ষে জানানো হয়েছে, পরবর্তী দিনে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য আরও বড় আন্দোলনে সোচ্চার হবেন তাঁরা।








