নজরবন্দি ব্যুরোঃ জাতীয় দলের মর্যাদা হারাল তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় দলের তকমা সরানো হচ্ছে। অন্যদিকে, আম আদমি পার্টি এবার থেকে জাতীয় দল হিসাবে মর্যাদা পাচ্ছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়াও সিপিআই, এনসিপি জাতীয় দলের তকমা হারিয়েছে। এদিকে তৃণমূল জাতীয় দলের তকমা হারাতে স্বাভাবিক ভাবেই কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে মমতা শিবির। কারণ জন্মলগ্ন থেকে ১৮ বছর অপেক্ষার পর জাতীয় দল হিসেবি স্বীকৃতি পেয়েছিল তৃণমূল।
আরও পড়ুনঃ বহিরাগতদের তাণ্ডবের জন্য আনা হয়েছিল, মুঙ্গের থেকে সব আমদানী হয়েছে, ফের সরব মমতা


১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে নতুন দল গড়েন মমতা বন্দোপাধ্যায়। এর পরে প্রথম নির্বাচনেই চমক দিয়েছিল তৃণমূল। সে বছরের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের ৪২ টি আসনের মধ্যে ৭টি আসনে জিতেছিল তারা। পরে ২০১৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর জাতীয় দল হিসেবে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দলকে স্বীকৃতি দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। সেই মর্যাদা এবার সরিয়ে নেওয়া হল। কিন্তু কেন?

নির্বাচনী আইন অনুযায়ী জাতীয় দল হতে গেলে তিনটি শর্তের মধ্যে অন্তত একটি পূরণ করতে হয়।
১) লোকসভায় অন্তত ৪টি রাজ্য থেকে ৬ শতাংশ ভোট পেতে হবে।
২)লোকসভায় ৩টি রাজ্য থেকে অন্তত ১১টি আসন (মোট আসনের ২ শতাংশ) জিততে হবে এবং আগের জেতা আসনের অন্তত ৪টি পুনরায় জিততে হবে।
৩) অন্তত ৪টি রাজ্যে ‘রাজ্য দলের’ তকমা পেতে হবে।
বড় ধাক্কা জোড়াফুল শিবিরে, জাতীয় দলের মর্যাদা হারাল তৃণমূল। কিন্তু কেন জানেন?



২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি ত্রিপুরা, অরুণাচল ও মণিপুরে ৬ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিল তৃণমূল। যার ফলে ২০১৬ সালে তৃণমূলকে জাতীয় দল হিসেবে মর্যাদা দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। কিন্তু ২০১৯ সালের নির্বাচনে সেই ভোট শতাংশ ধরে রাখতে পারেনি তারা। পরে ২০২২ সালে মনিপুর এবং ২০২৩ সালে ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে নোটার থেকেও ভোট কম পেয়ে আঞ্চলিক দলের স্বীকৃতি হারায় মমতার দল।

সেই কারনেই সোমবার জাতীয় নির্বাচন কমিশন বিজ্ঞপ্তি জারি করে তৃণমূল কংগ্রেসের আগে সর্বভারতীয় তকমাটি সরিয়ে দিল। এখন দেখার মমতা বন্দোপাধ্যায় এই ঘটনার পর কি উদ্যোগ নেন।







