পরীমণির পাশে গোটা বাংলাদেশ, এই খবরে ফেসবুকে নিজের মনের কথা বললেন তসলিমা

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ পরীমণির পাশে গোটা বাংলাদেশ, বেশ কিছু দিন ধরেই বাংলাদেশর সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছেন পরীমণি। মাদক এবং মধুচক্র চালানোর অভিযোগে অভিনেত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। এখন জেলে রয়েছেন পরীমণি। পরীমণির বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি শুধু মাদক এবং মধুচক্র চালাতেন না সঙ্গে বাংলাদেশের প্রভাবশালী মানুষদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল খুবই ঘনিষ্ঠ।

আরও পড়ুনঃ তালিবানকে বিশ্বাস নেই, দিল্লিতে বসে বললেন আফগান সাংসদ আনারকলি

এই অভিনেত্রীর সঙ্গে সময় কাটানোর অভিযোগে ইতিমধ্যেই অপসারিত হয়েছেন তদন্তকারী পুলিশ অফিসার। এছাড়াও তদন্ত যত এগোচ্ছে ততোই সামনে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য। কিন্তু পরীমণির পাশে দাঁড়িয়েছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। তিনি তাঁর ফেসবুক পেজে পরীমণির হয়ে বার বার কথা বলেছেন, প্রতিবাদ করেছেন। এবার তিনি জানিয়েছেন গোটা বাংলাদেশের মানুষ অভিনেত্রী পরীমণির পাশে দাঁড়িয়েছেন তাই তিনি খুব খুশি। ঠিক কি লিখেছেন তসলিমা? তাঁর লেখা হুবহু তুলে ধরা হল।

3 8

তিনি লিখেছেন, “পরীমণির ওপর নির্যাতন নিয়ে এখন বাংলাদেশে প্রতিবাদে সোচ্চার মানুষ। দেখে প্রাণ জুড়োচ্ছে। একসময় যখন কেউ ছিল না তার পাশে, যারা মন্দ লোক, তারা তাকে নিয়ে অকথ্য মন্দ কথা বলছিল, যারা ভালো লোক, তারা মুখ বুজে ছিল — তখন হাতে গোণা কিছু শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ পরীমণির পাশে দ্বিধাহীন দাঁড়িয়েছিল। কত যে বিষমাখা তীর তাদের বিদ্ধ করেছে তখন। তারপর ধীরে ধীরে মৃদু কণ্ঠে তার পক্ষে কথা বলতে শুরু করল কেউ কেউ, তারাও মেয়েটির সম্পর্কে তিনটে ভালো কথা বললে তিনটে মন্দ কথা বলছিল — তাতে ‘ব্যালেন্স’ হয়, অন্যায়ের প্রতিবাদও হয়।

4 10

বিশিষ্টরা এলেন আরও পরে, তারও পরে এখন বিশিষ্ট অবিশিষ্ট সকলেই চেহারা দেখাতে কার্পণ্য করছেন না। এভাবেই কিন্তু প্রতিবাদগুলো গড়ে ওঠে। হাতে গোণা কিছু সাহসী মানুষই সাত পাঁচ না ভেবে স্রোতের বিপক্ষে দাঁড়ায়। স্রোত যখন খুব বেশি বিপক্ষে নয়, তখন সুশীলদের দেখা মেলে। যে মেয়েকে বেশ্যা বলা হয়, সেই মেয়ের পক্ষে সেই মেয়েরাই প্রথম দাঁড়াতে সাহস করে, যাদেরও কোনও না কোনও সময় বেশ্যা বলে সমাজের লোকেরা অপমান করেছে।

5 10

ভদ্রমহোদয় বা ভদ্রমহিলারা অত সহজে অত্যাচারিতের পক্ষে কথা বলে না। কারও বিরুদ্ধে অন্যায় হলেও তারা আগে বুঝে নিতে চায় মুখ খুললে আবার বিপদ হবে কি না। কত তো অন্যায় হচ্ছে সমাজে, কটা অন্যায়ের প্রতিবাদ সুশীল সমাজ করে? যেটুকুই করে,গা বাঁচিয়ে করে। আশঙ্কা হচ্ছিল যেভাবে কোনও ক্ষমতাধরের নির্দেশে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং আদালত পরীমণিকে হেনস্থা করছে, হয়তো মেয়েটির সর্বনাশ না করে ছাড়বে না।

আশঙ্কা হচ্ছিল মেয়েটিকে বোধহয় ছুঁড়েই ফেলে দেবে সমাজ, কিন্তু না, তার ফিরে আসার জন্য চিত্রপরিচালকগণ অপেক্ষা করছেন। জামিনের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য তার মেরুদন্ডহীন আইনজীবীকেও ধিক্কার দেওয়া হচ্ছে। এভাবেই একটু একটু করে জনমত গড়ে উঠছে, এবং আমার দৃঢ় বিশ্বাস পরীমণি বিজয়ী হয়েই নিজের জীবনে ফিরে আসবে। তাকে হেনস্থা করার জন্য জনগণ আদালতকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে।

পরীমণির পাশে গোটা বাংলাদেশ, এই খবরে ফেসবুকে নিজের মনের কথা বললেন তসলিমা

পরীমণিকে অন্যায় ভাবে জামিন না দিয়ে জেলে বন্দি করা হয়েছে, এ নিয়ে খবর হচ্ছে বলে আমরা জানতে পারছি। কত হাজারো নির্দোষকে জামিন না দিয়ে জেলে বন্দি করা হয়েছে এবং হচ্ছে, তার খবর কে রাখে! কত নির্দোষকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলানো হয়েছে, যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে, বিনা বিচারে জেলে ফেলে রাখা হয়েছে বছরের পর বছর, তার তালিকা বের করা যায় না? সবার পিছে সবার নিচে পড়ে থাকা সর্বহারা ব্রাত্যদের পাশে দাঁড়ানোর অভ্যেস করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করা শিখতে হবে। সাত পাঁচ ভাবলে সমাজ বদলানো যায় না”।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর