প্রত্যাবর্তন এবং পলায়ন, মহুয়ার শত অনুরোধেও দরজার দিকেই পা বাড়ালেন মোদি!

বিগত এই তিন-চার মাস সময়ে মহুয়া বোধহয় সবচেয়ে বেশি করে অপেক্ষা করেছিলেন এই দিনটার জন্য, যেদিন তিনি আবার একজন সাংসদ হিসাবে পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখতে পারবেন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

অষ্টাদশ লোকসভা নির্বাচনের আগে তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় এথিক্স কমিটি। সাংসদ পদ হারান, ছেড়ে দিতে হয় বাংলোও। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগও ছিল গুরুতর, তিনি নাকি টাকার বিনিময়ে লোকসভায় প্রশ্ন করেছেন। সেই মহুয়া মৈত্রকেই ফের একবার কৃষ্ণনগরের টিকিট দেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর তিনি জিতেও যান। ইতিমধ্যেই লোকসভায় সাংসদ হিসাবে শপথ নিয়েছেন। বিগত এই তিন-চার মাস সময়ে মহুয়া বোধহয় সবচেয়ে বেশি করে অপেক্ষা করেছিলেন এই দিনটার জন্য, যেদিন তিনি আবার একজন সাংসদ হিসাবে পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখতে পারবেন।

সোমবার ছিল সেইদিন। মহুয়াকে বলার সুযোগ করে দিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। যদিও সেদিন মূল আকর্ষণ নিজের দিকে তার আগে টেনে নিয়ে যান বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। অনেকেই বলছেন, রাহুল তাঁর সাংসদ জীবনের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট বক্তব্য রেখেছেন চলতি বিশেষ অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে। আর একই দিনে বিরোধী শিবির থেকে বলার জায়গা পান মহুয়া মৈত্র। তৃণমূলের যে গুটিকয়েক সুবক্তা রয়েছেন তার মধ্যে মহুয়া অন্যতম, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

প্রত্যাবর্তন এবং পলায়ন, মহুয়ার শত অনুরোধেও দরজার দিকেই পা বাড়ালেন মোদি!

আর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, স্পিকার যেই মাত্র বক্তব্যের জন্য মহুয়ার নাম ঘোষণা করেন সঙ্গে সঙ্গেই নমষ্কার জানিয়ে সংসদ থেকে বেরিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, তাঁকে অনুসরণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মহুয়া অনুরোধ করেন প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর কথা শোনার জন্য কিন্তু, সেদিকে কর্ণপাত করেন না মোদি। সোজা গটগট করে দরজার দিকে এগিয়ে যান। যুক্তিও দেন মহুয়া। তিনি মোদির উদ্দেশ্যে বলেন, “নির্বাচনী প্রচারে আপনি আমার কেন্দ্রে দু’বার এসেছিলেন। এখন আমার কথাটুকু তো শুনুন!”

এরপর মোদিহীন সংসদেই নিজের চেনা স্টাইলে বক্তব্য শুরু করেন মহুয়া। সেই ভাঙা ভাঙা অথচ তীব্র গলার স্বর, সেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গি! রাহুলের পর মহুয়ার বক্তব্যে ঝড় ওঠে সংসদে। মহুয়া বলেন তাঁকে বহিষ্কারের বিষয়ে। তুলনা টানেন মহাভারতের সঙ্গে। বলেন, “৮ ডিসেম্বর কুরুসভা হয়েছিল সংসদে। দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণের চেষ্টা করেছিলেন দুঃশাসন। ধৃতরাষ্ট্র সে দিন অন্ধ ছিলেন।”

প্রত্যাবর্তন এবং পলায়ন, মহুয়ার শত অনুরোধেও দরজার দিকেই পা বাড়ালেন মোদি!

প্রত্যাবর্তন এবং পলায়ন, মহুয়ার শত অনুরোধেও দরজার দিকেই পা বাড়ালেন মোদি!

সঙ্গে বিজেপিকে স্মরণ করিয়ে দেন, বিরোধী পক্ষের একজনকে বসাতে গিয়ে তাঁদের ৬৩ জন সাংসদ বসে গিয়েছেন। মহুয়ার ভাষায়, “আমাকে বসানোর চক্করে জনতা আপনার ৬৩ জন সাংসদকে বসিয়ে দিয়েছে।এথিক্স কমিটি আমার বহিষ্কারে অনুমোদন দিয়েছিল। সেখানে ১০ জন সদস্য ছিলেন এবং এক জন চেয়ারপার্সন। পাঁচ জন সদস্য ছিলেন বিজেপির। তাঁদের মধ্যে চার জনই হেরে গিয়েছেন। চেয়ারপার্সনও হেরেছেন। কংগ্রেসের যে সাংসদ তাঁর বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন, তিনিও হেরেছেন। মহারাষ্ট্রের যে সাংসদ বিজেপির হয়ে বিতর্ক তুলেছিলেন, তিনিও হেরেছেন। কৃষ্ণের মতো কৃষ্ণনগরবাসী আমায় রক্ষা করেছিলেন।”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন