নজরবন্দি ব্যুরোঃ শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্তে নেমে রাজ্যের ১৪ টি জায়গায় একযোগে অভিযান চালায় এনফোর্স্মেন্ট ডিরেক্টরেট। এর মধ্যে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ সহ একাধিক তথ্য সংগ্রহ করে ইডি। সেই সমস্ত তথ্যকে হাতিয়ার করে আগামী দিনে আরও অনেক তথ্য হাতে পেতে চান ইডির আধিকারিকরা। কিন্তু সেই সমস্ত তথ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল অর্পিতার বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া কালো ডায়েরি। শিক্ষক নিয়োগে কালো ডায়েরি থেকে কী খোঁজার চেষ্টা করছে ইডি?
আরও পড়ুনঃ SSC Scam: অর্পিতার সব সম্পত্তির দলিল পার্থর বাড়িতে, কত গভীর সম্পর্ক তাঁদের? প্রশ্ন ED-র
ইডি সূত্রে খবর, যে সমস্ত তথ্য ওই দিন যে সমস্ত ইডি অর্পিতা মুখ্যোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাট থেকে বাজেয়াপ্ত করেছে, তার মধ্যে এই কালো ডায়েরির উল্লেখ রয়েছে। কি থাকতে পারে এই ডায়েরিতে? সূত্রের খবর, যে বিপুল অঙ্কের টাকা অর্পিতা মুখ্যোপাধ্যাইয়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে তাতে এই ডায়েরি গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে ইডি। তবে টাকার লেন্দেন সম্পর্কে তথ্যের উল্লেখ রয়েছে ডায়েরিতে?
এর আগে ইডি যখন অর্পিতা মুখ্যোপাধ্যায়কে তাঁর বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল, তখন একটি তথ্য উঠে এসেছিল। ইডি সূত্রে খবর ছিল, অর্পিতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, একেবারে দালাল থেকে নেতা হয়ে এই টাকা আসত। এই টাকা কোথায় যেত? কেন অর্পিতার বাড়ি থেকে শিক্ষা দফতরের খামে বিপুল অঙ্কের টাকা উদ্ধার হল? এরসঙ্গে আর কারা যুক্ত? এত বিপুল অঙ্কের টাকা কোথায় যেত? সেটার হদিশ মিলবে ওই ডায়রিতে?
যদিও ইডির তরফে এখনও স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। মনে করা হচ্ছে, এই ডায়েরির সূত্র ধরেই আগামী দিনে অর্পিতা মুখ্যোপাধ্যায় এবং পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন ইডির আধিকারিকরা। একইসঙ্গে ডায়েরি থেকে বিশেষ তথ্য উঠে আসতে পারে বলেও মনে করছেন তদন্তকারী অফিসাররা।
শিক্ষক নিয়োগে কালো ডায়েরি, উঠে আসতে পারে কোন তথ্য?

এদিন ইডির আদালতে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী বলেন, অর্পিতা মুখ্যোপাধ্যায় তাঁর পরিচিত। আমি অস্বীকার করছি না। কিন্তু আমার জুনিয়রের বাড়ি থেকে টাকা পাওয়া গেলে, আমার সঙ্গে যোগ কোথায়? তাই অর্পিতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য হাতে পেতে চায় তদন্তকারী সংস্থা। এদিন ইডির আইনজীবীরা বলেন, অর্পিতার বাড়িতে টাকা গুনতেই দু’দিন কেটে গিয়েছে। দু’দিন এজলাসে কাটল। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সময় মেলেনি। তাই দুই জনকে ১৪ দিনের হেফাজতে নিতে চান তাঁরা।



