নজরবন্দি ব্যুরোঃ ‘শুধু বেইমান নয় বিশ্বাসঘাতকও’, সদ্য বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য-রাজনীতিতে বহু চর্চিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি। দাপুটে তরুণ নেতার এই দলবদলকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে সাংবাদিকদের তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন ‘তৃতীয় বারের জন্য আবারও মুখ্যমন্ত্রী হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’
আরও পড়ুনঃ শুভেন্দুর পদত্যাগে উচ্ছসিত মদন, জানালেন “আজ তো দলের খুশির দিন”।


অন্যদিকে শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা পাওয়া নিয়ে শুভেন্দুকে খোঁচা দিয়ে বলেন, ‘‘ওই ৩০টা সিআইএসএফ আর কনভয় নিয়ে আপনি যেন ফের নন্দীগ্রামেই দাঁড়ান। সিটটা আবার বদল করবেন না।’’ সেই সঙ্গে পরিবারতন্ত্রের প্রসঙ্গ তুলে কল্যাণের মন্তব্য, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের কেউ মুখ্যমন্ত্রী হতে আগ্রহী নন। নিয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে। বিজেপি এই প্রচার করছে। অমিত শাহের লজ্জা পাওয়া উচিত।
বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী করেছেন। অন্য কেউ নন।’’ সভায় শুভেন্দুর তৃণমূল দলকে সমালোচনা প্রসঙ্গে এদিন সংবাদমাধ্যমকে কল্যাণ বন্দোপাধ্যায় বলেন,’ শুভেন্দু আদপে লোভী। ওকে তিন দপ্তরের ভার দেওয়া হলেও তিনি সন্তুষ্ট নন। আসলে অনেকদিন থেকেই তিনি অমিত শাহের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন , যেটা আমি মমতা বন্দোপাধ্যায়কে বিশ্বাস করাতে পারিনি। মেদিনীপুরের মাটিতে এমন বিশ্বাসঘাতক আগে কখনও জন্মায়নি।“ সেইসঙ্গে অমিত শাহ কে একহাত নিয়ে তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কৃষকবন্ধু।
আমরা আমাদের কাজের রিপোর্ট দিচ্ছি। এবার আপনারা করুন। ফেডারেল স্ট্রাকচারটা ভেঙে দিচ্ছে বিজেপি। এরা মিথ্যে কথা বলার সুদক্ষ কারিগর।‘ সাংবাদিক বৈঠকে ব্যক্তি শুভেন্দুকেও নিশানা করেন কল্যাণ। বলেন, ‘‘যে প্রণামটা অমিত শাহকে শুভেন্দু করেছেন, সেটা ১০ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে করেছেন। তেল দেওয়ার জন্যই এসব করেন শুভেন্দু।“ পাশাপাশি, নিজের মোবাইল ফোন তুলে ধরে দাবি করেছেন, সদ্য বিজেপি-তে যোগ দেওয়া নেতার অনেক ‘কুকথা’ সেখানে রেকর্ড করা রয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের কাছে প্রশ্ন রাখেন, ‘‘এখানে যে সব কথাবার্তা রয়েছে তা শুনলে ভাববেন, এ কোন ব্যক্তি বাংলার মুখ্যমন্ত্রিত্বের দাবিদার!’’


‘শুধু বেইমান নয় বিশ্বাসঘাতকও’, এদিকে শুভেন্দুর দলবদল প্রসঙ্গে TMC সাংসদ সৌগত রায়ের বক্তব্য, ‘এতে কোনও প্রভাব পড়বে না। আমরা গ্যাপ ভরাট করে নেব। ‘ তিনিও শুভেন্দু অধিকারীকে চ্যালেঞ্চ জানিয়ে বলেন, ‘নন্দীগ্রামে ৪০ শতাংশ মুসলিম ভোট। জিতবেন কী করে! সংখ্যালঘুরা ভোট দেবে না। জিততে কষ্ট হবে।’ অ্ন্যদিকে অমিত শাহের বিবেকানন্দের মূর্তিতে মালা দেওয়া নিয়ে কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন বিজেপি পার্টি নাটক বাজের পার্টি। তিনি আরও বলেন, বিবেকানন্দকে যদি এত ভালবাসেন তাহলে ওনার আদর্শকে ভালোবাসা উচিত ছিল মূর্তিতে মালা দিয়ে ওনার আদর্শকে ভালোবাসা যায় না।







