স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে বেতারবার্তা শুভেন্দুর, ৮০তম বর্ষে বাংলায় নতুন উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি

স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক নতুন কর্মসূচি। আকাশবাণী কলকাতা থেকে বেতারবার্তা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যজুড়ে পালিত হবে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষে পশ্চিমবঙ্গে স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপনের ধরনেই আসছে নতুনত্ব। ১৫ অগস্টের আগে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে আকাশবাণী কলকাতা থেকে বেতারবার্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একই সময়ে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচিতেও রাজ্যের সরকারি ভাবে অংশগ্রহণ এবং একাধিক কর্মসূচির প্রস্তুতি ঘিরে এ বারের স্বাধীনতা দিবসকে আলাদা মাত্রা দিতে চাইছে নবান্ন।

মুখ্যমন্ত্রীর এই বেতারবার্তার নির্দিষ্ট সময় এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu)-র স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে প্রচলিত ভাষণের পরে আকাশবাণী কলকাতা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা সম্প্রচারিত হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে আকাশবাণী বা প্রসার ভারতীর তরফে এখনও নির্দিষ্ট সম্প্রচারসূচি প্রকাশ করা হয়নি।

মুখ্যমন্ত্রীর বেতারবার্তার বিষয়বস্তু নিয়েও এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে নতুন সরকারের পক্ষ থেকে বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসকে সামনে রেখে একাধিক কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

এ বারের আয়োজনের আরও একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ (Har Ghar Tiranga)। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ৯ থেকে ১৭ অগস্ট পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে এই কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। নবান্নের নির্দেশে সরকারি দফতর, পুরসভা এবং জেলা প্রশাসনকে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, দেশাত্মবোধক কর্মসূচি-সহ একাধিক উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

এই কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পতাকা প্রদর্শন, ‘সেলফি উইথ তিরঙ্গা’, দেশাত্মবোধক গান, কুইজ, প্রবন্ধ ও ছবি আঁকার প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, ম্যারাথন, সাইকেল র‍্যালি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং বৃক্ষরোপণের মতো উদ্যোগ। সরকারি ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলিকে তেরঙ্গা রঙে আলোকিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

জাতীয় স্তরেও ২০২৬ সালের ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচি ৯ থেকে ১৭ অগস্ট পর্যন্ত পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বার ভারতের জাতীয় সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তির আবহও স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারের আমলে এই কর্মসূচির রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকার এ বার কেন্দ্রীয় ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ কর্মসূচির সঙ্গে সক্রিয় ভাবে যুক্ত হয়েছে। এর আগে রাজ্যে এই কর্মসূচির সরকারি বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ছিল। ফলে ২০২৬ সালে সরকারি উদ্যোগে বড় আকারে তিরঙ্গা কর্মসূচি আয়োজনকে অনেকেই প্রশাসনিক পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠান নিয়েও নজর রয়েছে রেড রোডে। দীর্ঘদিন ধরে কলকাতার রেড রোডেই রাজ্যের স্বাধীনতা দিবসের প্রধান কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এ বার সেই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি এবং তাঁর নেতৃত্বে স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপন বিশেষ রাজনৈতিক তাৎপর্য বহন করবে।

তবে মুখ্যমন্ত্রীর বেতারবার্তার প্রসঙ্গে একটি ঐতিহাসিক দিকও সামনে আসছে। পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীদের বেতারবার্তার নজির একেবারে নেই, এমন নয়। অতীতে সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় (Siddhartha Shankar Ray), প্রফুল্লচন্দ্র সেন (Prafulla Chandra Sen)-সহ একাধিক মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে বেতারের মাধ্যমে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন। পরীক্ষার আগে ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশেও মুখ্যমন্ত্রীদের বেতারবার্তার নজির ছিল।

কিন্তু স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নিয়মিত সরকারি অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে বেতারবার্তা দেওয়ার বিষয়টি আলাদা করে নজর কাড়ছে। বিশেষ করে নতুন সরকারের প্রথম স্বাধীনতা দিবস হওয়ায় এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক—দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাংলার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সরকারি কর্মসূচির সঙ্গে আরও দৃশ্যমান ভাবে যুক্ত করার কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাধীনতা দিবসের আয়োজনেও সেই ভাবনার প্রতিফলন রয়েছে বলে শাসক শিবিরের বক্তব্য।

তবে বিরোধীরা এই উদ্যোগকে নিছক প্রশাসনিক কর্মসূচি হিসেবে দেখছে না। তাদের বক্তব্য, স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস এবং বাংলার রাজনৈতিক ঐতিহ্যকে নতুন ভাবে ব্যাখ্যা করার বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে এই আয়োজন। বিশেষ করে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে (Syama Prasad Mukherjee) বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন করে তুলে ধরার সরকারি উদ্যোগ নিয়ে ইতিমধ্যেই বিতর্ক রয়েছে।

ফলে এ বারের স্বাধীনতা দিবস শুধু পতাকা উত্তোলন, কুচকাওয়াজ কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। নতুন সরকারের রাজনৈতিক বার্তা, বাংলার ইতিহাসের নতুন পাঠ এবং জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে রাজ্যের সক্রিয় অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে ১৫ অগস্টের আগে থেকেই রাজনৈতিক নজর ঘুরে গিয়েছে রাজ্যের দিকে।

সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অবশ্যই মুখ্যমন্ত্রীর বেতারবার্তা। কী বার্তা দেবেন শুভেন্দু, বাংলার ইতিহাস ও স্বাধীনতা সংগ্রামকে কী ভাবে ব্যাখ্যা করবেন এবং নতুন সরকারের আগামী দিনের ভাবনার সঙ্গে স্বাধীনতার ৮০তম বর্ষকে কী ভাবে যুক্ত করবেন—এখন সেই অপেক্ষাতেই রাজ্যবাসী।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন