সরকারি হাসপাতালের শিক্ষক-চিকিৎসকদের (Faculty Doctors) প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিয়ে বড় পদক্ষেপ রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের। নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনও রোগী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দিন এবং তার পরের ৪৮ ঘণ্টা—অর্থাৎ মোট ৭২ ঘণ্টা—সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-চিকিৎসক কোনও ধরনের প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না। নির্দেশ কার্যকর হওয়ায় মেডিক্যাল কলেজের ফ্যাকাল্টিদের ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরিষেবায় সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে।
নতুন বিজ্ঞপ্তিতে ২০০৬ সালের ওয়েস্টবেঙ্গল মেডিক্যাল এডুকেশন সার্ভিস রুলসের ২(১)-এর তৃতীয় শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই বিধির ভিত্তিতেই নির্দেশটি জারি হয়েছে এবং অবিলম্বে কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে।
নির্দেশের মূল বিষয় হল, কোনও রোগীকে সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করার দিন থেকেই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের জন্য ৭২ ঘণ্টার ‘নো প্রাইভেট প্র্যাকটিস’ বিধি কার্যকর হবে। অর্থাৎ শুধু ভর্তি হওয়ার দিন নয়, তার পরের দু’দিনও ওই রোগীর চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক-চিকিৎসক বেসরকারি ক্ষেত্রে চিকিৎসা করতে পারবেন না।
সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে সপ্তাহের নির্দিষ্ট একটি দিন ‘অ্যাডমিশন ডে’ হিসেবে নির্ধারিত থাকে। ফলে সাধারণ নিয়মে সপ্তাহে এক দিন ভর্তি সংক্রান্ত দায়িত্ব থাকলে, সেই দিনের পাশাপাশি পরবর্তী দু’দিনও প্রাইভেট প্র্যাকটিসের বাইরে থাকতে হবে। হিসাব অনুযায়ী, সপ্তাহে কার্যত চার দিনই বেসরকারি চিকিৎসা করার সুযোগ থাকবে।
তবে যে সব ফ্যাকাল্টির সপ্তাহে দু’দিন ‘অ্যাডমিশন ডে’ থাকে, তাঁদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। কারণ দু’টি ভর্তি-দিবসকে কেন্দ্র করে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার বিধিনিষেধ কার্যকর হলে সপ্তাহের অধিকাংশ দিনই প্রাইভেট প্র্যাকটিসের উপর নিষেধাজ্ঞা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকছে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে চিকিৎসক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। চিকিৎসকদের একাংশের বক্তব্য, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের অনেক রোগী একই সময়ে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে চিকিৎসাধীন থাকেন। ফলে আচমকা ৭২ ঘণ্টার বিধিনিষেধ চালু হলে সেই রোগীদের চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হতে পারে।
বিশেষ করে কোনও চিকিৎসকের কাছে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন রোগীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ। নতুন নিয়মে সেই চিকিৎসক নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে না পারলে রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থায় সাময়িক অসুবিধা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকদের একাংশ।
অন্যদিকে, রোগী পক্ষের একটি অংশ স্বাস্থ্য দপ্তরের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। তাঁদের যুক্তি, কোনও রোগী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-চিকিৎসকের নজরদারি আরও বেশি নিশ্চিত হলে চিকিৎসা পরিষেবার মান উন্নত হতে পারে। সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর প্রতি চিকিৎসকের দায়িত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও এই নির্দেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তাঁরা।
ফলে নতুন নির্দেশিকাকে ঘিরে একদিকে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও নজরদারি আরও নিশ্চিত করার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন। আগামী দিনে এই ৭২ ঘণ্টার বিধি কী ভাবে কার্যকর হয় এবং রোগী পরিষেবা ও চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চিকিৎসা—দুই ক্ষেত্রের মধ্যে কী ভাবে ভারসাম্য রাখা হয়, এখন সেদিকেই নজর।



