পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজে আবর্জনা দেখে ক্ষুব্ধ বিজেপি সাংসদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ফোন! শো-কজ় ৮ আধিকারিককে

পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজের অপরিচ্ছন্নতা দেখে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ফোন করেন বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতো। ঘটনার পর পরিচ্ছন্নতা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব নিয়ে স্বাস্থ্য দফতরের পদক্ষেপ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

হাসপাতাল চত্বরে ছড়িয়ে রয়েছে আবর্জনা, নোংরা জল জমে রয়েছে বিভিন্ন জায়গায়—পুরুলিয়ার সরকারি মেডিক্যাল কলেজের এই ছবি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিংহ মাহাতো (Jyotirmay Singh Mahato)। হাসপাতাল থেকেই রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে (Sharadwat Mukhopadhyay) ফোন করে পরিচ্ছন্নতা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ জানান তিনি। ঘটনার পর স্বাস্থ্য দফতর হাসপাতালের একাধিক আধিকারিককে শো-কজ় করেছে বলে জানা গিয়েছে।

এক পরিচিতের বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে বিজয়া দশমীর রাতে পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজের শহর ক্যাম্পাসে গিয়েছিলেন সাংসদ। সেখানে হাসপাতাল চত্বরের অপরিচ্ছন্ন অবস্থা দেখে ক্ষোভ জানান তিনি। কেন সরকারি হাসপাতালে এমন পরিস্থিতি, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি সুপারকে ডেকে পাঠানোর কথাও জানান জ্যোতির্ময়। পরে ফোনে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে পরিস্থিতির কথা জানান এবং ছবি পাঠানোর কথা বলেন।

হাসপাতালের এই অবস্থার জন্য কয়েক জন কর্মীর ইচ্ছাকৃত গাফিলতিকে দায়ী করেছেন বিজেপি সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, সরকারের তরফে পরিচ্ছন্নতার জন্য অর্থ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও হাসপাতাল অপরিষ্কার রাখা হচ্ছে। এর পিছনে সরকারকে বদনাম করার উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

ঘটনার পর স্বাস্থ্য দফতরের তরফে প্রশাসনিক পদক্ষেপ করা হয়েছে। সংবাদসূত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতালের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং ছয় সহকারী সুপারকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হাসপাতাল কেন অপরিষ্কার ছিল, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। দ্রুত পরিচ্ছন্নতার কাজ শেষ করে তার ছবিও স্বাস্থ্য দফতরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীও হাসপাতালের অবস্থা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের উপস্থিতি ও ছুটির বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ঠিক কোন আধিকারিকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত সরকারি নির্দেশ প্রকাশ্যে না থাকায় বিষয়টি স্বাস্থ্য দফতরের বক্তব্যের ভিত্তিতেই দেখা প্রয়োজন।

হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সাংসদের পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতা নেপাল মাহাতো প্রশ্ন তুলেছেন, পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজে অপরিচ্ছন্নতার সমস্যা নতুন নয়—তাহলে সাংসদ আগে কেন বিষয়টি নিয়ে সরব হননি? তাঁর বক্তব্য, শুধু আধিকারিকদের বদলি বা শাস্তির দাবি না তুলে হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে, পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মৌসুমি বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শো-কজ়ের বিষয়ে তাঁর কাছে স্পষ্ট তথ্য নেই। তবে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতার কাজের পরিকল্পনা সংক্রান্ত ফাইল স্বাস্থ্য দফতরে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। হাসপাতালের সুপার সুকমল বিষই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি।

সরকারি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বের বিষয় নয়, রোগী ও তাঁদের পরিবারের স্বাস্থ্য-নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। পুরুলিয়া মেডিক্যাল কলেজের ঘটনায় স্বাস্থ্য দফতর দ্রুত পরিষ্কারের নির্দেশ দিলেও, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দেওয়ার ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর