বিহার মেডিক্যাল কাউন্সিলের জাল শংসাপত্র ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার অভিযোগে দুই চিকিৎসককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। রাজপুর-সোনারপুরের একটি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত উত্তম মাইতি এবং ইউনূস হাসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর নথি যাচাই করে পদক্ষেপ করা হয়েছে। বিহারের সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁদের নথি ভুয়ো বলে জানিয়েছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর।
দুই চিকিৎসকই জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন (National Health Mission) প্রকল্পের অধীনে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা স্বাস্থ্য দফতরের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছিলেন। অভিযোগ ওঠার পর তাঁদের শিক্ষাগত ও পেশাগত নথি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাওয়া হয়। সেই যাচাই প্রক্রিয়াতেই তাঁদের রেজিস্ট্রেশন নিয়ে গুরুতর অসঙ্গতির কথা সামনে আসে।
সূত্রের খবর, উত্তম মাইতি এবং ইউনূস হাসান বিহার মেডিক্যাল কাউন্সিলের নথি দেখিয়ে পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করিয়েছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিহারের মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে ওই নথির সত্যতা জানতে চায়।
গত ১১ সেপ্টেম্বর বিহার কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশনের রেজিস্ট্রারের তরফে জানানো হয়, ওই দুই চিকিৎসকের নামে থাকা রেজিস্ট্রেশন শংসাপত্রের কোনও বৈধতা নেই। অর্থাৎ যে নথির ভিত্তিতে তাঁরা পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসক হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছিলেন, সেটি ভুয়ো বলে জানানো হয়েছে।
এর পরেই বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা শুরু করে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল। দুই চিকিৎসককে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানানোর সুযোগও দেওয়া হয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর তাঁদের হাজির হওয়ার জন্য নোটিস পাঠানো হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
তবে এখনও পর্যন্ত দু’জনের কেউই সেই নোটিসের জবাব দেননি বা কাউন্সিলের সামনে হাজিরা দেননি বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাঁদের তরফে কোনও সাড়া না মেলায় চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা স্বাস্থ্য দফতরের তরফেই দুই চিকিৎসকের কাছে বরখাস্তের চিঠি পাঠানো হয়েছে। ফলে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় তাঁদের কর্মজীবনেরও ইতি ঘটল।
বিষয়টি সামনে আসে অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিংহোম (Association of Private Hospitals and Nursing Homes)-এর তরফে অভিযোগের পর। অভিযোগের ভিত্তিতেই নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় চিকিৎসকদের নিয়োগ ও নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে অন্য রাজ্যের মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশনের নথির ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে যাচাই কতটা কঠোর হওয়া প্রয়োজন, সেই বিষয়টি সামনে এসেছে।
তবে দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—বিহার কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশনের তরফে তাঁদের রেজিস্ট্রেশন শংসাপত্র ভুয়ো বলে জানানো হয়েছে এবং সেই ভিত্তিতেই রাজ্য কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অন্য কোনও অভিযোগ বা অপরাধের বিষয়ে এই প্রতিবেদনে আলাদা করে কোনও দাবি করা হচ্ছে না।
স্বাস্থ্য দফতরের এই পদক্ষেপের ফলে সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের শংসাপত্র ও মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশন যাচাইয়ের বিষয়টিও ফের সামনে এল। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নিয়োগের সময় নথি যাচাই আরও কঠোর করার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা শুরু হতে পারে।



