উত্তরপ্রদেশের আমরোহায় ধর্মীয় স্থান ঘোরানোর কথা বলে এক যুবতীকে ফার্মহাউসে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দুই পুলিশকর্মী ও দুই সিআরপিএফ জওয়ানের বিরুদ্ধে। হরিয়ানার ওই যুবতীর অভিযোগের ভিত্তিতে চারজনকেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগটি সামনে আসার পর বিভাগীয় স্তরেও পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি আমরোহার হাসানপুর এলাকার। পুলিশ জানিয়েছে, ২২ সেপ্টেম্বর রাতে ওই ফার্মহাউসে ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ। অভিযুক্তদের মধ্যে হাসানপুর থানায় কর্মরত এক সাব-ইন্সপেক্টর ও এক হেড কনস্টেবল এবং সিআরপিএফের এক সাব-ইন্সপেক্টর ও এক হেড কনস্টেবল রয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (Bharatiya Nyaya Sanhita)-র সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিয়ানার ফতেহাবাদ এলাকার প্রায় ২৩-২৪ বছর বয়সি ওই যুবতীর সঙ্গে ২০ সেপ্টেম্বর এক পরিচিত মহিলা যোগাযোগ করেন। ধর্মীয় স্থান ঘোরার কথা বলে তাঁকে সিআরপিএফের মোহিত নামে এক কর্মীর সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়। পরদিন সোনিপতে মোহিতের সঙ্গে দেখা করার পর তাঁরা মিরঠের দিকে যান। সেখানে সিআরপিএফের হেড কনস্টেবল লালারাম যাদব তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ওই দুই সিআরপিএফ কর্মী যুবতীকে গাড়িতে করে হাসানপুরের দিকে নিয়ে যান। পথে তাঁদের সঙ্গে হাসানপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর সঞ্জয় তোমর যোগ দেন। এরপর তাঁরা আটরাসি-হাসানপুর রোডের একটি ফার্মহাউসে পৌঁছে দু’টি ঘর নেন। সেখানে পুলিশ হেড কনস্টেবল প্রমোদ খাবার ও মদের ব্যবস্থা করেছিলেন বলে অভিযোগ।
যুবতীর বয়ান অনুযায়ী, পরে মোহিত, লালারাম যাদব এবং সঞ্জয় তোমর তাঁর ঘরে ঢুকে পরপর ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। এরপর প্রমোদ ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে তিনি তাঁকে ধাক্কা দিয়ে বাইরে বের করে ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। তারপর অনলাইনে পুলিশের হেল্পলাইন নম্বর খুঁজে সাহায্যের চেষ্টা করেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন ওই যুবতী।
পরদিন ভোরে, প্রায় ৬টা নাগাদ পুলিশকে ফোন করেন তিনি। খবর পেয়ে হাসানপুর ও রাজাবপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যুবতীকে উদ্ধার করে। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে চারজনকেই গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে তাঁদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমরোহার পুলিশ সুপার লক্ষ্মণ সিং যাদব।
অভিযোগ সামনে আসার পর অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সাব-ইন্সপেক্টরকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। দুই সিআরপিএফ কর্মীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের সুপারিশ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। ফার্মহাউসটির মালিকানা নিয়েও তদন্ত চলছে; স্থানীয় পুলিশ আধিকারিকের দাবি, সেটি উত্তরাখণ্ডের এক নির্দল বিধায়কের বলে জানা গিয়েছে। সম্পত্তির ম্যানেজারকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব (Akhilesh Yadav) সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগের প্রেক্ষিতে উত্তরপ্রদেশ সরকারের সমালোচনা করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি করেছেন। তবে মামলাটি এখনও তদন্তাধীন এবং চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।



