রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের মহার্ঘ ভাতা (DA) ইস্যুতে বড় ঘোষণা করল শুভেন্দু অধিকারী সরকার। সোমবার বিধানসভায় পশ্চিমবঙ্গ বাজেট ২০২৬ (West Bengal Budget 2026) পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানান, বর্তমান DA-র উপর অতিরিক্ত ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের মোট মহার্ঘ ভাতার হার বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৩৮ শতাংশ। তবে এই বৃদ্ধির পরেও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের তুলনায় রাজ্যের কর্মীদের DA-তে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান থেকে যাচ্ছে।
বাজেট ঘোষণায় জানানো হয়েছে, বর্তমানে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা ১৮ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা পান। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অতিরিক্ত ২০ শতাংশ DA যুক্ত হওয়ায় মোট হার হবে ৩৮ শতাংশ। আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে এই বর্ধিত DA কার্যকর হবে।
তবে রাজ্যের এই ঘোষণার পরও কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে সমতা আসেনি। বর্তমানে কেন্দ্রীয় কর্মীরা ৬০ শতাংশ হারে DA পাচ্ছেন। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার আরও ২ শতাংশ DA বৃদ্ধি করায় জানুয়ারি ২০২৬ থেকেই সেই হার কার্যকর হয়েছে।
ফলে হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের DA ৩৮ শতাংশে পৌঁছলেও কেন্দ্রের সঙ্গে এখনও ২২ শতাংশের ব্যবধান বজায় থাকছে। দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় হারে DA-র দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসা কর্মচারী সংগঠনগুলির কাছে এই ফারাক এখনও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে রয়েছে।

উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সময় DA নিয়ে একাধিকবার বিতর্ক ও আন্দোলন দেখা গিয়েছিল। কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতা এবং বকেয়া DA প্রদানের দাবিতে কর্মচারীদের একাংশ দীর্ঘদিন আন্দোলন করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে অন্তর্বর্তী বাজেটে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ৪ শতাংশ DA বৃদ্ধির ঘোষণা করেছিলেন।
সেই সময় জানানো হয়েছিল, DA বেড়ে ২২ শতাংশ হবে এবং এপ্রিল মাস থেকে নতুন হার কার্যকর করা হবে। তবে কর্মচারী সংগঠনগুলির অভিযোগ ছিল, ঘোষিত হারে DA কার্যকর হয়নি। একই সময়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্রীয় হারে DA প্রদানের দাবি খারিজ করেছিলেন।
DA সংক্রান্ত একাধিক মামলা এখনও আদালতে বিচারাধীন। এর মধ্যেই বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে DA ২০ শতাংশ বৃদ্ধি সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ অনেকটাই প্রশমিত করতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
একই সঙ্গে সরকার বকেয়া DA মেটানোর প্রক্রিয়াও শুরু করেছে বলে সূত্রের দাবি। ফলে মহার্ঘ ভাতা নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর রাজ্যের লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য এই বাজেটকে গুরুত্বপূর্ণ মোড় বলেই মনে করা হচ্ছে।



