মাদুরোকে ‘অপহরণ’ ঘিরে আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নে কাঠগড়ায় আমেরিকা, উদ্বিগ্ন রাষ্ট্রপুঞ্জ

মাদুরোকে আটক করে নিউ ইয়র্কে হাজির করায় আন্তর্জাতিক আইন ভাঙার অভিযোগ আমেরিকার বিরুদ্ধে। রাষ্ট্রপুঞ্জের উদ্বেগ, লাতিন আমেরিকা জুড়ে নিন্দার ঝড়।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভেনেজ়ুয়েলার রাজধানীতে সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক আটক করে দেশছাড়া করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন। রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদ লঙ্ঘনের অভিযোগে সরাসরি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে আমেরিকা। এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জও। লাতিন আমেরিকা জুড়ে নিন্দার সুর যেমন চড়ছে, তেমনই নিউ ইয়র্কের আদালতে শুরু হতে চলা মামলাকে ঘিরে নজর এখন গোটা বিশ্বের।

১৯৪৫ সালের অক্টোবরে স্বাক্ষরিত রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদের অনুচ্ছেদ ২(৪) অনুযায়ী, কোনও দেশই অন্য দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে পারে না। এই বিধি রাষ্ট্রপুঞ্জের সব সদস্য দেশের জন্য বাধ্যতামূলক। সেই প্রেক্ষিতেই ভেনেজ়ুয়েলায় ঢুকে প্রেসিডেন্টকে আটক করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইন ভাঙার অভিযোগ উঠেছে আমেরিকার বিরুদ্ধে।

এই অভিযান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন United Nations-এর মহাসচিব António Guterres। তাঁর বক্তব্য, “গোটা ঘটনা আমাকে উদ্বিগ্ন করেছে। এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।” একই সঙ্গে ভেনেজ়ুয়েলার নাগরিকদের সংযম বজায় রাখার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, আমেরিকার অভিযোগ ভিন্ন। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, মাদক পাচার এবং সন্ত্রাসে অর্থ জোগাতে ভেনেজ়ুয়েলার তেল সম্পদ ব্যবহার করা হয়েছে, আর এই সব কর্মকাণ্ড হয়েছে প্রেসিডেন্ট মাদুরোর নির্দেশে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করে মার্কিন বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে Donald Trump-এর প্রশাসন।

এই ঘটনার পর ভেনেজ়ুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের সুরেও বদল চোখে পড়ছে। আগেই কড়া হুঁশিয়ারি শোনানো হলেও, পরে সুর নরম করেছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেস। তিনি জানিয়েছেন, আমেরিকার সঙ্গে “ভারসাম্যপূর্ণ ও শ্রদ্ধাশীল” সম্পর্ক গড়ে তোলাই তাঁদের লক্ষ্য।

মার্কিন পদক্ষেপের কড়া নিন্দা করেছে মেক্সিকোও। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট Claudia Sheinbaum স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কোনও দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেয় না।

এদিকে, নিউ ইয়র্কে মাদুরোর মামলার শুনানি হবে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ জেলা আদালতে। বিচারকের দায়িত্বে রয়েছেন ৯২ বছর বয়সি Alvin Hellerstein, যাঁকে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট Bill Clinton মনোনীত করেছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রায় দেওয়ার নজির রয়েছে তাঁর। এর মধ্যে রয়েছে পর্নতারকা Stormy Daniels-কে ঘিরে ট্রাম্প সংশ্লিষ্ট মামলায় ফেডারেল আদালতে মামলা স্থানান্তরের আবেদন খারিজের সিদ্ধান্ত।

সব মিলিয়ে, ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্টকে আটক করে নিউ ইয়র্কে হাজির করানোর ঘটনায় শুধু দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, আন্তর্জাতিক আইনের ভবিষ্যৎ প্রয়োগ নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠে গেল। এই মামলার রায় যে বিশ্ব রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত