রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গেল কলকাতার নিরাপত্তার ছবি। বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি ও কার্যালয়ের সামনে থেকে সরিয়ে নেওয়া হল অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তা। লালবাজারের নির্দেশ কার্যকর হতেই একে একে ফাঁকা হয়ে যায় কালীঘাট, ক্যামাক স্ট্রিট ও হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের নিরাপত্তা কিয়স্ক। রাজনৈতিক মহলে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
মঙ্গলবার থেকেই বদলটা চোখে পড়তে শুরু করেছিল। কলকাতা পুলিশের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়, ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিট, ১২১ কালীঘাট রোড এবং ১৮৮এ হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে আর অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন থাকবে না। সেই সিদ্ধান্তই বুধবার সকাল থেকে কার্যকর হয়।


১৮৮এ, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন। দীর্ঘদিন ধরে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার কারণে এই এলাকায় ছিল কড়া নজরদারি। গলির মুখে থাকা ‘সিজ়ারস ব্যারিকেড’ আগেই সরানো হয়েছিল। এ বার তুলে নেওয়া হল অতিরিক্ত পুলিশি মোতায়েনও। তবে প্রশাসনিক সূত্রে খবর, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে প্রোটোকল অনুযায়ী যে নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, তা বজায় থাকবে।
অন্য দিকে, শেক্সপিয়র সরণি থানার অন্তর্গত ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটে রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কার্যালয়। তৃণমূলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত এই দফতরে দীর্ঘদিন ধরেই ছিল কড়া নিরাপত্তা বলয়। মঙ্গলবার দুপুর থেকেই সেখানে কমতে শুরু করে পুলিশি উপস্থিতি। বুধবার সকাল নাগাদ সম্পূর্ণ সরিয়ে নেওয়া হয় অতিরিক্ত বাহিনী।
একই ছবি দেখা গিয়েছে ১২১ কালীঘাট রোডে অভিষেকের বাসভবনের সামনেও। যদিও সূত্রের দাবি, সাংসদ হিসাবে অভিষেক যে নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারী, তা বহাল থাকবে।


রাজ্যে সরকার বদলের পর প্রশাসনিক স্তরে একের পর এক পরিবর্তনের মধ্যেই এই সিদ্ধান্তকে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে মমতা ও অভিষেকের নিরাপত্তা বলয়ে এই দ্রুত বদলকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা।







