ভোটে জয়ের পর আবেগ, অভিমান, রাজনীতি আর টলিউড— সব মিলিয়ে বিস্ফোরক বার্তা দিলেন অভিনেতা-থেকে-রাজনীতিক হওয়া বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ। দীর্ঘ দিনের ‘ব্যান সংস্কৃতি’, রাজনৈতিক বিভাজন এবং শিল্পী সমাজের নীরবতা নিয়ে সরব হয়ে তিনি স্পষ্ট জানালেন, “আমাকেও একসময় ব্যান করা হয়েছিল। তখন তো কেউ পাশে দাঁড়াননি। কিন্তু আমি প্রতিশোধ নেব না।” একই সঙ্গে তাঁর দাবি, বাংলার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন এবং সেই পরিবর্তনের প্রভাব এবার পড়বে টলিউড থেকে প্রশাসন— সর্বত্র।
জয়ের পর নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র হাওড়ায় গিয়ে যে অভ্যর্থনা পেয়েছেন, তা নিয়েও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। পদ্মফুল আর মালায় প্রায় ঢেকে যাওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, মানুষের ক্ষোভ, বঞ্চনা আর দীর্ঘদিনের হতাশাই এই ভোটের ফল তৈরি করেছে।


তাঁর কথায়, “মানুষ পরিষেবা পায়নি, উল্টে প্রতিবাদ করলেই হুমকি আর অপমান পেয়েছে। সেই ক্ষোভ থেকেই বাংলাজুড়ে পরিবর্তনের ভোট হয়েছে।”
এই প্রসঙ্গেই উঠে আসে পরিচালক-অভিনেতা রাজ চক্রবর্তীর নাম। ভোট-পরবর্তী সময়ে রাজকে অপমানের মুখে পড়তে হয়েছে বলে খবর সামনে এসেছে। সেই নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত ভাবে রাজ তাঁর বন্ধু হলেও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে মানুষের ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
তাঁর বক্তব্য, “রাজ অত্যন্ত প্রতিভাবান। কিন্তু মানুষ যে দলের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ, সেই দলের সঙ্গে নিজেকে জড়ানোটা হয়তো মানুষের ভাল লাগেনি। তবে রাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে নয়, মানুষের রাগ ছিল তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের বিরুদ্ধে।”


একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে রাজনৈতিক কারণে তাঁকেও বিভিন্ন ছবি ও সিরিজ়ে কাজ থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। যদিও কারও বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক আচরণের পথে তিনি হাঁটবেন না বলেই স্পষ্ট জানিয়েছেন।
টলিউডের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে তাঁর বার্তা, “যোগ্যতার ভিত্তিতেই কাজ হবে। কে অভিনয় করবে, কে করবে না— এভাবে আর কেউ নিয়ন্ত্রণ করবে না।”
তিনি আরও দাবি করেন, সাংবাদিকদের উপরও এতদিন পরোক্ষ চাপ ছিল। নতুন পরিস্থিতিতে সেই সংস্কৃতিরও অবসান হবে বলে তাঁর আশা।
এই প্রসঙ্গে অনির্বাণ ভট্টাচার্য, ঋদ্ধি সেনদের মতো শিল্পীদের ‘নিষিদ্ধ’ থাকার অভিযোগ নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। তাঁর মতে, রাজনৈতিক নির্দেশে যেহেতু এই সংস্কৃতি চলত, তাই সেই রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলালে বাধাও আর থাকবে না।
এদিন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর তদন্ত নিয়েও সরব হন তিনি। অভিযোগ করেন, যাঁরা রাহুলের মৃত্যুর জন্য পরোক্ষভাবে দায়ী, তাঁদের অনেকেই আবার প্রতিবাদ মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, নতুন পরিস্থিতিতে সব অন্যায়ের বিচার হবে।
সব মিলিয়ে, ভোটের জয়ের পর তাঁর এই বার্তায় যেমন রাজনৈতিক পালাবদলের ইঙ্গিত মিলেছে, তেমনই টলিউডের অন্দরের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও বিভাজনের ছবিও উঠে এসেছে স্পষ্টভাবে।







