জয়ের হ্যাটট্রিকের পর ফের নন্দীগ্রামে এসে আবেগঘন বার্তা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০১৬, ২০২১ এবং ২০২৬— টানা তিনবার নন্দীগ্রামে জয়ী বিজেপি নেতা এদিন কর্মীদের সঙ্গে বিজয় উদযাপনে যোগ দেন। একই সঙ্গে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম— দুই কেন্দ্রেই জয়ের পর তিনি স্পষ্ট জানালেন, “আমি এগারোর পরিবর্তনে ছিলাম, কিন্তু এবার আসল পরিবর্তন দেখলাম।”
দু’বার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে ইতিমধ্যেই ‘জায়ান্ট কিলার’ তকমা পেয়েছেন শুভেন্দু। মঙ্গলবার ভবানীপুরে যাওয়ার পর বুধবার নন্দীগ্রামে পৌঁছে কর্মী-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান তিনি।


মঞ্চ থেকে শুভেন্দু বলেন, “যাঁরা নিজের জীবন, পরিবার, মামলা সব উপেক্ষা করে গত পাঁচ বছর লড়াই করেছেন, তাঁদের আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। যাঁরা শুভেন্দু অধিকারীকে আজকের জায়গায় এনেছেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা রইল।”
বিশেষ করে মহিলাদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যে মায়েরা ও বোনেরা নিজেদের সম্মান বাজি রেখে পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের আমি প্রণাম জানাই।”
তবে জয়ের উচ্ছ্বাসের মাঝেও কর্মীদের শান্ত থাকার বার্তা দেন বিজেপি নেতা। তাঁর কথায়, “কুকুর মানুষকে কামড়ায়, মানুষ কুকুরকে কামড়ায় না। অনেক অত্যাচার হয়েছে, কিন্তু আইন হাতে তুলে নেবেন না।”


তিনি আরও জানান, বিজেপি সরকার গঠনের পর আইন অনুযায়ী প্রতিটি অভিযোগ ও মামলা খতিয়ে দেখা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিন নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “আমার বৃদ্ধ বাবা-মাকেও সিআইডি দিয়ে হেনস্থা করা হয়েছে। কিছুই ভুলিনি। কিন্তু আমি চাই না, আপনারা প্রতিশোধের পথে হাঁটুন।”
রাজ্যজুড়ে বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর আবেদন, শান্তি বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের লক্ষ্যও স্পষ্ট করে দেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ৪৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে, আগামী দিনে তা ৬০ শতাংশের উপরে নিয়ে যেতে হবে।
পূর্ব মেদিনীপুরে বিজেপির সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “লোকসভায় এই জেলায় ৩৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল বিজেপি। এবার ১৬-০ ফল হয়েছে এবং ৫৬ শতাংশ ভোট পেয়েছি।”
বিজয় মিছিল নিয়েও সতর্ক বার্তা দেন শুভেন্দু। তিনি জানান, ৯ তারিখের পর পুলিশের অনুমতি নিয়েই শান্তিপূর্ণ ভাবে বিজয় মিছিল করতে হবে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যা সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই মেনে চলা হবে বলেও জানান তিনি।
একই সঙ্গে ইঙ্গিত দেন, জোড়া আসনে জয়ী হওয়ায় আগামী ১০ দিনের মধ্যে একটি আসন ছাড়তে হবে তাঁকে। যদিও কোন আসন রাখবেন, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও এদিন তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর ঘোষণা, হলদিয়া ও নন্দীগ্রামকে সেতুর মাধ্যমে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।







