বিজেপির বঙ্গ জয়ের পর প্রথম কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকেই বড় সিদ্ধান্ত নিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। রাষ্ট্রীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’-এর সমমর্যাদায় উন্নীত করার সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘বন্দে মাতরম’-কে অসম্মান করা বা গাওয়ার ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃত অনীহা দেখালেও আর্থিক জরিমানা থেকে জেল— দুইয়েরই মুখে পড়তে হতে পারে।
কেন্দ্রীয় সূত্রে খবর, ন্যাশনাল অনার অ্যাক্টের সেকশন ৩ সংশোধন করে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার পথে এগোচ্ছে কেন্দ্র। এতদিন জাতীয় পতাকা, সংবিধান এবং জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’-কে অসম্মান করলে শাস্তির বিধান ছিল। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে ‘বন্দে মাতরম’ও।


রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপির বাংলায় ঐতিহাসিক জয়ের পর এই সিদ্ধান্তের বিশেষ রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। কারণ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বন্দে মাতরম’ দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছে।
এর আগেই চলতি বছরের জানুয়ারিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার ক্ষেত্রে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করেছিল। সেই নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, সরকারি অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’-এর পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া এবং বাজানো বাধ্যতামূলক হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, যদি একই অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ এবং ‘জনগণমন’ দু’টিই পরিবেশিত হয়, তবে প্রথমে গাওয়া হবে ‘বন্দে মাতরম’। পাশাপাশি বঙ্কিমচন্দ্রের লেখা গানের ছয়টি স্তবকই গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।


এছাড়াও নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়, ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বা বাজানোর সময় শ্রোতাদের দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতে হবে।
কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে বিজেপি এই পদক্ষেপকে জাতীয় ঐক্য ও দেশপ্রেমের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছে, অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।
এখন নজর, সংসদে আইনি সংশোধনের প্রক্রিয়া কত দ্রুত সম্পন্ন হয় এবং বাস্তবে এই সিদ্ধান্ত কীভাবে কার্যকর করা হয়।







