চাকরি পেয়েও বাতিল নিয়োগ! উচ্চ প্রাথমিকের দুই শিক্ষকের যোগ্যতা নিয়ে চাঞ্চল্য

উচ্চ প্রাথমিক নিয়োগে ফের গোলমাল। ইউজিসি অনুমোদিত নয় এমন ডিগ্রি নিয়ে ধরা পড়লেন দুই প্রার্থী। নিয়োগপত্র পেয়েও বাতিল হল অনুমোদন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গের উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ফের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এল। চাকরি পাওয়ার পরেও শেষমেশ নিয়োগ বাতিল হল দুই প্রার্থীর। শিক্ষা দফতরের সূত্রে খবর, উচ্চ প্রাথমিক নিয়োগ বাতিল করার কারণ তাঁদের জমা দেওয়া ডিগ্রির বৈধতা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ।

সম্প্রতি স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) ওই দুই প্রার্থীকে নিয়োগপত্র দিয়েছিল। তাঁরা পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দুটি পৃথক উচ্চ প্রাথমিক স্কুলে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু যোগদানের সময় নথি যাচাইয়ের সময় স্কুল কর্তৃপক্ষের চোখে পড়ে কিছু অসঙ্গতি। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে জানানো হয় এসএসসি-কে।

কমিশন এরপর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (UGC) মাধ্যমে ওই ডিগ্রিগুলির বৈধতা যাচাই করে। ইউজিসির তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, প্রার্থীদের ডিগ্রি যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নেওয়া, সেটি UGC অনুমোদিত নয়। এই রিপোর্ট পাওয়ার পরই কমিশন তড়িঘড়ি তাঁদের নিয়োগ বাতিল করে।

চাকরি পেয়েও বাতিল নিয়োগ! উচ্চ প্রাথমিকের দুই শিক্ষকের যোগ্যতা নিয়ে চাঞ্চল্য
চাকরি পেয়েও বাতিল নিয়োগ! উচ্চ প্রাথমিকের দুই শিক্ষকের যোগ্যতা নিয়ে চাঞ্চল্য

প্রার্থীদের দাবি বনাম কমিশনের সিদ্ধান্ত

দুই প্রার্থী দাবি করেছিলেন, তাঁরা ভিন্‌ রাজ্যের ইউজিসি অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জন করেছেন। কিন্তু ইউজিসির যাচাইয়ে উঠে আসে ভিন্ন তথ্য। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়টি অনুমোদনবিহীন, ফলে ওই ডিগ্রি কার্যত অকার্যকর।

ফলে, কমিশনের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়, তাঁদের নিয়োগ অনুমোদন বাতিল করা হচ্ছে। এর পরেই সমগ্র তথ্য শিক্ষা দফতরের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদই উচ্চ প্রাথমিক নিয়োগের চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ হওয়ায় বিষয়টি এখন তাদের হাতে।

২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নতুন জট

এই ঘটনা আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ, এটি ঘটছে ২০১৬ সালের উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া বর্তমানে চলছে। ইতিমধ্যে বহু প্রার্থী নিয়োগপত্র পেয়েছেন, কিন্তু এখনো ১,২৪১ জনের নিয়োগ বাকি।

এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই উচ্চ প্রাথমিক নিয়োগ বাতিল সংক্রান্ত এই ঘটনা নিয়োগ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও যাচাই নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলছে।

নিয়োগে নজরদারি আরও কড়াকড়ি

শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জমা দেওয়া নথি এখন বহুস্তরীয় যাচাইয়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। প্রথমে স্কুল কর্তৃপক্ষ, পরে এসএসসি, এবং শেষে ইউজিসি পর্যন্ত যাচাই চলছে। এর ফলে যে কোনও ধরনের ভুয়ো ডিগ্রি বা অনুমোদনবিহীন সনদ দ্রুত ধরা পড়ছে।

রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। আদালতের তত্ত্বাবধানে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলায় প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে বলে দাবি কমিশনের অভ্যন্তরীণ সূত্রের।

প্রার্থীদের জন্য সতর্কবার্তা

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, উচ্চ প্রাথমিক নিয়োগ বাতিল শুধুই কারিগরি ব্যাপার নয়, বরং শিক্ষাগত যোগ্যতার সঠিক যাচাইয়ের ফল। ভুয়ো বা অনুমোদনহীন ডিগ্রির উপর ভিত্তি করে আবেদন করলে তা যে শেষ পর্যন্ত বাতিল হবে, সেটাই স্পষ্ট বার্তা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন