নজরবন্দি ব্যুরোঃ জমজমাট উচ্চ প্রাথমিকের শুনানি। আজ উচ্চ প্রাথমিকের গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি হল কলকাতা হাইকোর্টে। ইচ্ছামত টেটের নাম্বার বাড়িয়ে দেওয়া, রেসিও না মানা প্রভৃতি অভিযোগে জেরবার আপার প্রাইমারি নিয়োগ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি আজ শুরু হয় দুপুর আড়াইটের সময়। আক্তারুল ইসলাম বনাম রাজ্য সরকার এবং ভানু রায় বনাম রাজ্য সরকার। এই দুটি মামলাই বিচারপতি মৌসুমি ভট্টাচার্য্যের বেঞ্চে শুনানি হয় এদিন। চাকরিপ্রার্থীদের পক্ষে সওয়াল করেন বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য্য, ফিরদৌস শামিম, সুবীর সান্যাল এবং দিব্যেন্দু চ্যাটার্জী।
আরও পড়ুনঃ EMI স্থগিত ২ বছর? সুদের ওপর সুদ চাপাবে ব্যাঙ্ক? ৭ দিনের প্রতীক্ষা আর।


এদিনের শুনানি-তে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য্য একে একে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোথায় কোথায় যোগ্য প্রার্থীদের প্রতি বঞ্চনা করা হয়েছে সেই বিষয়গুলি তুলে ধরতে থাকেন। তিনি মহামান্য বিচারপতির সামনে একাধিক তথ্য তুলে ধরেন। যার মধ্যে ছিল মেরিট লিস্টের অসঙ্গতি। ইন্টারভিউতে পেনশিল দিয়ে নাম্বার দেওয়া। রেশিও না মেন্টেইন করা ইত্যাদি একাধিক তথ্য বিচারপতির সামনে তুলে ধরেন এদিন।
জমজমাট উচ্চ প্রাথমিকের শুনানি। ভানু রায় মামলায় প্রায় ৪০০ পাতার সাপ্লিমেন্টরি জমা দেওয়া হয় এদিন। পাশাপাশি রাজা নন্দী এবং রাজীব নন্দীর ডকুমেন্ট বিচারপতিকে দেখানো হয়। রাজা নন্দী রাজীব নন্দীর থেকে ২ নাম্বার কম পেয়েও ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনে ডাক পাননি। অন্যদিকে রাজা নন্দীর নাম মেরিট লিস্টে রয়েছে। পাশাপাশি কমিশন ইন্টারভিউতে(যারা ইন্টারভিউ নিয়েছেন) তাঁরা পেনে সই করেছেন কিন্তু নাম্বার বসিয়েছেন পেনশিলে। এই তথ্যও আজ রাখা হয় বিচারপতির টেবিলে। আজ চাকরিপ্রার্থীদের পক্ষের আইনজীবীরা বলা শেষ করতে পারেননি। উল্লেখ্য, এ বিষয়ে রাজা নন্দীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল তিনি জানিয়েছেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কমিশনের ল ইয়ার প্রমাণ দেবেন কোর্টে।
আগামীকাল দুপুর আড়াইটের সময় এই মামলার ফের শুনানি হবে। পাশাপাশি আগামীকাল বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য্য তাঁর বক্তব্যের শেষ অংশ রাখবেন বিচারপতির সামনে। প্রসঙ্গত, উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় ২০১৪ সালে, পরীক্ষা হয় ২০১৫ সালে,এবং ফল প্রকাশিত হয় ২০১৬ সালে। এরপর ২০১৯ সালে ভেরিফিকেশন ও ইন্টারভিউ নেওয়া হয় সেখানে দেখা যায় অনেক অপ্রশিক্ষনরত এবং কম নম্বর পাওয়া প্রার্থীরা ডাক পেয়েছে। এরই ভিত্তিতে আমরা হাইকোর্টে কেস করেছিলাম। এরপর বেশ কয়েকজন কেস পিটিশনের ভেরিফিকেশন ডাক পায়।


আরও পড়ুনঃ ১৫ হাজার শূণ্যপদে নিয়োগ। টেট পরীক্ষা হবে নভেম্বর মাসে।
কিন্তু এখনও প্রায় ৪২০০ জন কেস পিটিশনের অর্থাৎ রিট পিটিশনের ভেরিফিকেশন ও ইন্টারভিউ হয়নি। এরই মধ্যে কমিশনের নির্দেশে কলকাতা হাইকোর্ট ২০১৯ সালে প্রভিশনাল মেরিট লিস্ট বের করার রায় দিয়েছিল। পাশাপাশি মেরিট লিস্ট র উপর কারোর কোনো অভিযোগ থাকলে কমিশনে জমা করার কথা বলেছিলেন বিচারপতি। সেই মতো প্রায় ১২০০০ প্রার্থী অভিযোগ করেছিল।








