নজরবন্দি ব্যুরোঃ ২০১৬সালে নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে মন্ত্রী হন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। যদিও 2021 এর বিধানসভা নির্বাচনে তিনি এই কেন্দ্র থেকে পরাজিত হন। রবিবার এই বিধানসভা কেন্দ্রে একটি কর্মী সভার ডাক দেওয়া হয়। আমন্ত্রণ পত্রে নাম না থাকায় প্রথম থেকেই শুরু হয় বিতর্ক। আজ তাকে বাদ দিয়ে কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয় নাটাবাড়ি হাইস্কুলের মাঠে।
আরও পড়ুনঃ পাল্টালো না লাল-হলুদের গল্প, এগিয়ে থেকেও ড্র


এই কর্মীয়াভায় উপস্থিত ছিলেন, তুফানগঞ্জ ১নম্বর ব্লকের ব্লক সভাপতি,জগদীশ বর্মন, কোচবিহার জেলার তৃণমূলের চেয়ারম্যান উদয়ন গুহ, জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুল জলিল আহমেদ, এন বিএস টিসির চেয়ারম্যান পার্থ প্রতিম রায় সহ একাধিক বর্ষীয়ান নেতা। কিন্তু কর্মী সভায় দেখা যায়নি, কোচবিহার জেলা সভাপতি গিরিন্দ্র নাথ বর্মনকে। যদিও অসুস্থতার কারণে তিনি আসতে পারেননি বলে জানা যায় পরে।
সভামঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উদয়ন, পার্থ উভয়ই বক্তব্যের ৯০% নাম না করে, পিতা পুত্রকে কটাক্ষ করেন।
জেলায় যারা সাংগঠনিক দায়িত্বে রয়েছে, দলের তাদের কথাই শেষ কথা বলে জানিয়েছেন। সেই কর্মীসভার মঞ্চ থেকে নাম না করে রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে কটাক্ষ করতে গিয়ে উদয়ন গুহ বলেন, “দল যাকে যখন দায়িত্ব দেবে জেলায় তাকে মেনেই সকলকে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। কোন লম্বা নেতার কথায় কোচবিহার জেলা দল চলতে পারে না। জেলায় সংগঠনের জেলা সভাপতি ও জেলা চেয়ারম্যান তারাই শেষ কথা। সে প্রকাশ্যে ব্লক সভাপতি কে চড় মারে কিংবা কথায় কথায় বুক ফুলিয়ে চলার চেষ্টা করে সে কোনদিনও নেতা হতে পারে না।”
সরু নেতা – মোটা নেতার কথায় সংগঠন চলেনা! পিতা – পুত্রকে চরম কটাক্ষ উদয়ন, পার্থর।

তাঁর কথায়, “বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাচ্ছে লম্বা নেতা দলীয় নির্দেশ না মেনে নিজের ইচ্ছামত কাজ করছেন। কিছুদিন আগেই দিনহাটায় এক তৃণমূল নেতাকে দল বিরোধী কাজের অভিযোগে বহিষ্কার করা হলেও সেই নেতাকে দলীয় সভায় হাতে পতাকা তুলে দিয়ে স্বাগত জানানো এটা কোনোভাবেই দলের শৃঙ্খলা হতে পারে না। দলে বাপ-বেটা কোন শেষ কথা নয়। এবারে বিধানসভা নির্বাচনে নাটাবাড়ি এলাকার সাধারণ মানুষ যোগ্য জবাব দিয়ে দিয়েছে।”


সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থা চেয়ারম্যান পার্থপ্রতিম রায় বলেন , ”কোন লম্বা নেতা, সরু নেতা, মোটা নেতার কথায় জেলা সংগঠন চলতে পারে না। কেউ যদি হবে নিজের হাতে দলের ক্ষমতায়ন থাকবে এটা ভুল। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন যাকে জেলার দায়িত্ব দেবেন তখন তাকেই মেনে নিয়ে মাথা পেতে কাজ করতে হবে। এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত রয়েছে উদয়ন গুহ এবং গিরীন্দ্রনাথ বর্মন এর উপর।”







