ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্কে ফের চাপ বাড়ানোর সুর শোনা গেল ওয়াশিংটন থেকে। দ্বিগুণ শুল্ক বসানোর পরেও থামছেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দিলেন, ভারতের উপর আরও শুল্ক চাপানো হতে পারে। রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে তাঁর যে অসন্তোষ রয়েছে, তা নরেন্দ্র মোদী জানতেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি—যা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
রবিবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠতে উঠতেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদী খুব ভালো মানুষ। ওঁ জানত যে আমি খুশি ছিলাম না। আমায় খুশি রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ। ওরা আমাদের সঙ্গে বাণিজ্য করে, আমরা যে কোনও সময়ে শুল্ক বাড়িয়ে দিতে পারি।” এই বক্তব্যেই স্পষ্ট, শুল্ককে চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে তিনি এখনও অনড়।


প্রসঙ্গত, গত বছর ভারতীয় পণ্যের উপর প্রথমে পাল্টা শুল্ক বা রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ আরোপ করে আমেরিকা। তার পর রাশিয়া থেকে তেল কেনার অভিযোগে ভারতের উপর আরও ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক বসানো হয়। ফলে মোট শুল্কের হার দাঁড়ায় ৫০ শতাংশ, যা কার্যত সর্বোচ্চ স্তর। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তখন কড়া প্রতিবাদ জানায় নয়াদিল্লি।
গত সপ্তাহেই ফোনে মোদীর সঙ্গে কথা হয়েছিল ট্রাম্পের। তখন দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং শুল্ক ইস্যুতে সমাধানের বার্তা দিয়েছিলেন দু’পক্ষই। কিন্তু রবিবার ট্রাম্পের বক্তব্যে সেই সমঝোতার সুর উধাও। বরং ফের শুল্ক বাড়ানোর হুঁশিয়ারিতে প্রশ্ন উঠছে—ভারত কি নতুন করে বাণিজ্যযুদ্ধে জড়াতে চলেছে?
কূটনৈতিক সূত্রের মতে, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি নিয়ে ভারতের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই পরিষ্কার—জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাজারদরের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত। তবে আমেরিকার চাপের মুখে ফের শুল্ক বাড়ানো হলে ভারতের প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা নিয়েই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।









