নজরবন্দি ব্যুরো: অঙ্গ বেচে ঋণ মেটান, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তিন কৃষি বিলের বিরোধীতায় দিল্লি সীমান্তে প্রতিবাদে বসেছেন কৃষকরা। কেন্দ্রের ৬ দফা বৈঠকের পর ও নিজদের অবস্থান থেকে সরছেন না তাঁরা। তার মাঝেই দেশের শিক্ষাবিদরা কৃষকদের লড়াইকে স্যালুট জানিয়ে কৃষি আইনের পক্ষে আলোচনা করে খোলা চিঠি দিয়েছেন কৃষকদের। কিন্তু এই আইন নিয়ে জটিলতার জট কাটছে না কিছুতেই। গত একমাসের আন্দোলন যখন গোটা দেশকে একত্রিত করছে তখন তার মাঝেই আত্মহত্যার চরম পথ বেছে নিলেন মধ্যপ্রদেশের এক কৃষক।
আরও পড়ুনঃ নিউ নর্ম্যালেই দ্যা শো মাস্ট গো অন।


আর মৃত্যুর আগে তিনি চিঠি লিকেহ গেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। সেই মর্মস্পর্শী চিঠিতে লিখেছেন তিনি ” শরীরের অঙ্গ- প্রত্যঙ্গ বেচে দিয়ে ঋণ মিটিয়ে দেবেন।” এই চিঠির কোথায় কার্যত কেঁপে উঠছে দেশের সাধারণ মানুষ। বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশের মটভুগান গ্রামের বাসিন্দা মুনেন্দ্র রাজপুত। যিনি নিজের প্রাণের বাজি দিয়ে চলে গেলেন দেশ ছেড়ে। লাগাম ছাড়া বিদ্যুতের বিল মেটাতে না পেরে ছেড়ে গেলেন নিজের প্রাণ ই।
একেই ভারত তৃতীয় বিশ্বের দেশ। তার মধ্যে করোনা কালের দীর্ঘ লকডাউনে কাজের ক্ষতি হয়েছে মানুষের। মুনেন্দ্র তাদের মধ্যেই একজন। নিউ নর্মাল সময়ে খুব বেশ বিক্রি হয়নি ফসল। তার ভাই জানায় বকেয়া বিদ্যুতের বিলের জন্য সরকারি কর্তা ব্যাক্তিদের কাছে সময় চেয়েছিল দাদা,কিন্তু পারলেন না । একেই রোজগার পাতি না হওয়ায় ভালো আর্থিক অনটনের মধ্যেই দিন কাটছিল মুনেন্দ্র এর।
এরই মাঝে বকেয়া না মেটানোর জন্য বিদ্যুৎ সংস্থা কেড়ে নেয় তাঁর মোটর বাইকের চাবি। এবং তাঁর আটা কলেও ছবি দিয়ে দেওয়া হয়। আর তাতেই ভেঙে পড়েন তিনি।বেছে নেন চূড়ান্ত পথ ৮৭ হাজার টাকা বকেয়া বিলের পরিবর্তে ছেড়ে গেলেন মর্মস্পর্শী চিঠি। স্থানীয় পুলিশ ইন্সপেক্টর কলমজিত সিংহ বলেছে আত্মহত্যা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে ঘটনাটি। তদন্ত চলছে।


অঙ্গ বেচে ঋণ মেটান, ইতিমধ্যে মধ্যপ্রদেশের স্থানীয় বিধায়ক রাজেশ কুমার শুক্লা মধ্যপ্রদেশের মূখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের কাছে চিঠি লিখে গোটা ঘটনার তদন্ত ও ন্যায় বিচার চেয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। কৃষকদের এই পরিণীতির নেপথ্যে যাঁরা তাদের বিরুদ্ধে গর্জেও উঠেছেন বিধায়ক। এদিকে মধ্যপ্রদেশের সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এবং মৃতের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা ক্ষতি পূরণ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
নিম্ন তাপমাত্রায় দিল্লির রাজপথে একমাসেরও বেশি সময় ধরে যখন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা। তখন দেশের অভ্যন্তরে চলছে এরকম মর্মস্পর্শী ঘটনা। কৃষকরা জানিয়েছে আগামী বৈঠকে যদি সমাধান না আনে কেন্দ্র সরকার তাহলে আরো বড় আন্দোলনের দিকে যাবেন তাঁরা।







