নজরবন্দি ব্যুরো: আজ ষষ্ঠী। দেবী দুর্গাকে বোধনের দিন আজ। দেবীপক্ষে ষষ্ঠীতে দুর্গাকে বোধন করে পুজো করেন রাম। দুর্গার বোধন ঘিরে পৌরাণিক কাহিনিও বিদ্যমান। বোধন এই শব্দটির অর্থ জাগ্রত করা। মর্ত্যে দুর্গার আবাহনের জন্য বোধনের রীতি প্রচলিত রয়েছে। এ দিন কল্পারম্ভ দিয়ে শুরু হয় দুর্গার বোধন। ষষ্ঠীর সকালেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: পুজোতে ভিড় এড়ানোর একমাত্র উপায় মেট্রো, জেনেনিন কোন ষ্টেশনের সামনে কোন বিখ্যাত মণ্ডপ


তার পর দশভূজার সামনে প্রার্থনা করা হয় যে, ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত গোটা পূজা পর্বে যেন কোনও বিঘ্ন না ঘটে। এর পর ঘট ও জলে পূর্ণ একটি তামার পাত্র মণ্ডপের কোণে স্থাপন করা হয়। এই স্থানেই দুর্গা ও চণ্ডীর পুজো করা হয়। এর পর হয়, দুর্গার বোধন। তার পর অধিবাস, আমন্ত্রণের পর্ব। বোধনের পর বিল্ব শাখার দেবীকে আহ্বান জানানো হয়। অশুভ শক্তি দূরের জন্য ঘটের চারপাশে তীরকাঠিতে সুতো জড়িয়ে আমন্ত্রণ প্রক্রিয়া শুর হয়। এ ভাবেই শেষ হয় মহাষষ্ঠীর আচার।
মহাষষ্ঠীর পুজোর সময় জেনে নিন এখানে– ১৪ আশ্বিন, ইং ১ অক্টোবর শনিবার- পঞ্চমী প্রাতঃ ঘ ৬।২৪ পরে ষষ্ঠী শেষরাত্রি ঘ ৪।৪ পর্যন্ত। প্রাতঃ ঘ ৬।২৪ গতে দুর্গা ষষ্ঠী। সূঃ উঃ ৫।৩২। অঃ ৫।২৩। পূর্বাহ্ণ ৯।২৯ ষষ্ঠী রাত্রি ৮। ৩৭ পর্যন্ত। শ্রীশ্রী দুর্গা ষষ্ঠী। পূর্বাহ্ণ মধ্যে (কিন্তু কালবেলানুরোধে দিবা ঘ ৭।০ গতে পূর্বাহ্ণ মধ্যে)। দেবী দুর্গার ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা প্রশস্তা। সায়ংকালে দুর্গার বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস।

বোধনের মূল তাৎপর্য, এই আচারের একটি পৌরাণিক তাৎপর্য রয়েছে। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী এ দিনই স্বর্গ থেকে মর্ত্যে পদার্পণ করেন দেবী দুর্গা। সঙ্গে থাকেন তাঁর চার সন্তান লক্ষ্মী, গণেশ, কার্তিক, সরস্বতী। এদিন দুর্গার মুখের আবরণ উন্মোচিত হয়। মনে করা হয়, বোধনের পর প্রতিমার মধ্যে প্রাণ প্রতিষ্ঠিত হয়। এই বোধন আবার অকাল বোধন হিসেবে খ্যাত। হিন্দু শাস্ত্র মতে সূর্যের উত্তরায়ন দেবতাদের সকাল। উত্তরায়নের ছয় মাসকে দেবতাদের এক দিন হিসেবে গণ্য করা হয়। সকালে সমস্ত দেব-দেবীর পুজো করা হয়। আবার দক্ষিণায়ন শুরু হলে ছয় মাসের জন্য নিদ্রা যান সমস্ত দেব-দেবী। এই দক্ষিণায়ন দেবতাদের রাত।


আজ মহাষষ্ঠী, জানুন এর তাৎপর্য এবং নিঘণ্ট

রাতে দেব-দেবীর পুজো করা হয় না। কিন্তু দক্ষিণায়নের ছয় মাসের মধ্যেই দুর্গাপুজো হয় বলে বোধনের মাধ্যমে আগে দেবী দুর্গাকে ঘুম থেকে তোলা হয়। পুরাণে এর সঙ্গে একটি কাহিনিও জড়িত। রাবণের সঙ্গে যুদ্ধের আগে দুর্গার বোধন করেছিলেন দশরথ পুত্র রামচন্দ্র। এর পর দুর্গার আরাধনা করে শক্তি ও সৌভাগ্যের প্রার্থনা করেন তিনি। অকালে দুর্গাকে জাগিয়ে তোলা হয়েছিল বলেই একে অকাল বোধন বলা হয়ে থাকে।







