শুদ্ধিকরণ! BJP যোগের পর ‘গোবরজলে’ ধোয়া হল জীতেন্দ্রর বিধায়ক কার্যালয়।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ কোন দলে থাকবেন এটা ঠিক করতেই তাঁর লেগে গেল কয়েকটা মাস। কয়েকমাস আগেই তিনি ভেবেছিলেন সামিল হবেন ‘মিশন সোনার বাংলা’য়। তার পর গড়িয়ে গেছে অনেক সময়। দোনামনা নিয়ে মাঝের কিছুটা সময় তৃণমুলেই রয়ে গিয়েছিলেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। তবে এবার পাকাপাকি ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছেন তিনি।দীর্ঘ জল্পনা সত্যি করে গতকালই বিজেপিতে যোগ দিইয়েছেন পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। বৈদ্যবাটির সভা থেকে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের উপস্থিতিতে সবুজ জার্সি খুলে পরে নিয়েছেন গেরুয়া জার্সি। আর তার পরই হল তাঁর কার্য্যালয়ের শুদ্ধিকরণ!

আরও পড়ুনঃ গেরুয়া শিবিরে কি যাচ্ছেন মহারাজ! জবাব দিলেন নিজেই।

রাজ্যে এই দলবদলের খেলা শুরু করেছিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন হেভিওয়েট নেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর পর থেকে এখনও পর্যন্ত ভাঙন চলছেই ঘাসফুল শিবিরে। তবে ফাঁকা থাকছে না জায়গা। একদল তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যাচ্ছেন তো একদল বিজেপি থেকে ফিরছেন তৃণমূলে। তাছাড়া একাধিক জনপ্রিয় মুখও নতুন কর্বে শুরু করছেন তাঁদের রাজনীতির ইনিংস। গত ১৯ ডিসেম্বর শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেই তাঁর গেরুয়া শিবিরে নাম লেখানোর কথা ছিল। কিন্তু সেই সময়ে জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে দলে নেওয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন বাবুল সুপ্রিয় সহ অনেক বিজেপি নেতা। ফলত তিওয়ারিকে দলে নেওয়ার প্রক্রিয়া থেমে যায়। তিনিও নিজের পুরনো গদিতেই ফিরে আসেন।

শেষমেশ নিজের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জিতেন্দ্র। সোনার বাংলা গড়ার জন্য খুশি মনে গতকালই বিজেপির পতাকা তুলে নিয়েছেন হাতে। আর তার পরই পান্ডবেশ্বরে দেখা গেছে তৃনমূল সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া। যার মধ্যে ওয়াকিবহাল মহল রাজীব ব্যানার্জীর পদত্যাগের পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে মিল পেয়েছেন। আজ বুধবার সকালে তৃণমূলকর্মীরা পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক কার্যালয় গোবরজল দিয়ে ধুয়ে ‘শুদ্ধ’ করেছেন। উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের ব্লক সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এবং হরেরাম সিংহ। 

শুদ্ধিকরণ! যদিও জিতেন্দ্রর এই দলত্যাগের প্রভাব তৃনমূলের ভোট ব্যাঙ্কে খুব বেশি পড়বেনা বলেই মনে করছে দল। তবে থেমে নেই তাঁর প্রাক্তন দলের কর্মী সমথকদের প্রতিক্রিয়া। ইতিমধ্যেই আসানসোলে জিতেন্দ্রর কাটাউট বানিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। এমনিতেই দলীয় কাজে তিওয়ারি এখন কলকাতায়। এই পরিস্থিতিতে তিনি বিজেপিতে যোগদানের পরই তাঁর পান্ডবেশ্বেরের কার্য্যালয় দখল নেয় TMC সমর্থকরা। গোবরজলে ধুয়ে ফেলা হয়। স্থানীয় তৃণমূল ব্লক সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেছেন, ‘‘এই এলাকায় যত কয়লাচোর রয়েছে তারা একত্রিত হচ্ছে। এর আগে কয়লাচোর রাজু ঝা, জয়দেব খাঁ গিয়েছিল। এখন জিতেন গেল। এর ফলে তৃণমূল দলটা শুদ্ধ হচ্ছে! তাই গোবরজল দিয়ে দলের অফিস ধোয়া হয়েছে।’

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত