প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরই তৃণমূলের অন্দরমহলে ফাটলের ইঙ্গিত। জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জে চারবারের বিধায়ক খগেশ্বর রায়ের নাম বাদ পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন তিনি। শুধু ক্ষোভই নয়, জেলা চেয়ারম্যান পদ ছাড়ার সিদ্ধান্তও ঘোষণা করলেন এই বর্ষীয়ান নেতা। নতুন প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।
তৃণমূলের তালিকায় দেখা যায়, এবার রাজগঞ্জ আসনে খগেশ্বর রায়ের বদলে প্রার্থী করা হয়েছে এশিয়াডে সোনাজয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মনকে। এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক নেতা-কর্মী পদত্যাগও করেন বলে জানা গেছে।
২০০৯ সাল থেকে টানা এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে আসছিলেন খগেশ্বর রায়। ফলে এবারও তিনিই প্রার্থী হবেন—এমনটাই প্রায় নিশ্চিত ধরে নিয়েছিল রাজনৈতিক মহল। কিন্তু হঠাৎ এই পরিবর্তনে হতবাক তিনি নিজেও। তাঁর কথায়, “এই সিদ্ধান্ত আশা করিনি। দলের শুরু থেকেই লড়াই করেছি। উত্তরবঙ্গে বাম দুর্গে প্রথম ফাটল ধরিয়েছিলাম আমি। শেষ পর্যন্ত টাকার কাছে হেরে গেলাম।”
অন্যদিকে, নতুন প্রার্থী স্বপ্না বর্মন এই বিতর্কে সংযত অবস্থানই নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “দিদি যা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেটাই চূড়ান্ত। এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।” ব্যক্তিগত কারণেও তিনি এই মুহূর্তে প্রচার শুরু করতে পারেননি, কারণ তাঁর বাবা অসুস্থ এবং তিনি শিলিগুড়িতে রয়েছেন।
তবে রাজনৈতিক সৌজন্য বজায় রাখতে খগেশ্বর রায়ের সঙ্গে দেখা করেন স্বপ্না। তাঁদের মধ্যে কথা হয়েছে বলেই জানা গেছে। এরপর খগেশ্বরও কিছুটা নরম সুরে বলেন, “প্রার্থী নির্বাচন দলের বিষয়। স্বপ্না এসেছিল, কথা হয়েছে। ওর নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা রইল।”
সব মিলিয়ে, রাজগঞ্জে তৃণমূলের এই প্রার্থী বদল শুধু রাজনৈতিক সমীকরণ নয়, সংগঠনের ভেতরেও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এখন দেখার, এই ক্ষোভ কতটা প্রভাব ফেলে ভোটের ফলাফলে।



