২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ চড়ছে। আর সেই আবহেই তৃণমূল কংগ্রেসের আসন্ন ইস্তেহার ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র কৌতূহল। কী থাকতে চলেছে শাসক দলের নতুন রোডম্যাপে? বিশেষ করে মহিলা ও যুব ভোটারদের জন্য কি বড় কোনও ঘোষণা অপেক্ষা করছে? সূত্রের ইঙ্গিত, এবারের ইস্তেহার হতে চলেছে চমকভরা এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দলীয় সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই ইস্তেহার প্রকাশ করতে পারে তৃণমূল। গত ১৫ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান যেমন তুলে ধরা হবে, তেমনই আগামী ৫ বছরের রূপরেখাও স্পষ্ট করা হবে এই নথিতে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে বড়সড় ঘোষণা থাকতে পারে বলে জোর জল্পনা।
এবারের ইস্তেহারে বাঙালি অস্মিতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে বলেই জানা যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে ‘যে লড়ছে সবার ডাকে, সেই বাঁচাবে বাংলা মা-কে’ স্লোগান ছড়িয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক বার্তায় স্পষ্ট, সাংস্কৃতিক ও আঞ্চলিক পরিচয় রক্ষাকেই বড় ইস্যু করতে চাইছে তৃণমূল।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অতীতে একাধিকবার ভিনরাজ্যে বাঙালি শ্রমিকদের হেনস্থা নিয়ে সরব হয়েছেন। ধর্মতলায় প্রতিবাদ মঞ্চ থেকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণও শানিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের ইস্তেহারে ‘বাংলা-বিরোধী’ ইস্যুকেও জোরালোভাবে তুলে ধরা হতে পারে।
যুব ও মহিলা ভোটারদের লক্ষ্য করে একগুচ্ছ নতুন প্রকল্প বা আর্থিক সুবিধার ঘোষণা থাকতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে ‘দুয়ারে রেশন’ এবং ‘মা ক্যান্টিন’-এর মতো প্রকল্প ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখেই এবারের ইস্তেহারেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত প্রকল্পগুলিতে জোর দেওয়া হতে পারে।
সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক মহলের নজর এখন একটাই—তৃণমূলের এই নতুন ইস্তেহার কতটা জনমুখী এবং কতটা ভোটে প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়।



