প্রাক্তন পুলিশকর্মীর মেয়েকে শ্লীলতাহানি ও প্রাণনাশের হুমকি তৃণমূল নেতার, তীব্র চাঞ্চল‍্য খড়দায়

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকাবাসী। এখন দেখার, পুলিশ কী পদক্ষেপ নেয় এবং অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

প্রাক্তন পুলিশকর্মীর মেয়েকে শ্লীলতাহানি ও প্রাণনাশের হুমকি, অভিযুক্ত তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য। উত্তর ২৪ পরগনার খড়দায় এক প্রাক্তন পুলিশকর্মীর মেয়ের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের এক পঞ্চায়েত সদস্যের বিরুদ্ধে। রবিবার এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযোগ, রাস্তা আটকে ওই তরুণী ও তাঁর দিদিকে মারধর করে অভিযুক্ত নেতা ও তাঁর দলবল।

কী ঘটেছিল? স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই তরুণী ও তাঁর দিদি স্কুটিতে করে আবাসনের ভিতরের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনই তাঁদের পথ আটকান তৃণমূল নেতা ও তাঁর অনুগামীরা। অভিযোগ, নতুন নিয়ম চালু হয়েছে বলে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু এই বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানতেন না, তাই প্রতিবাদ করতেই তাঁদের মারধর করা হয় ও শ্লীলতাহানি করা হয়

অভিযোগকারীদের দাবি, তৃণমূল নেতা তাঁদের বলেন, “এখন থেকে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করা যাবে না, এটা নতুন নিয়ম।” তরুণীরা প্রতিবাদ করতেই তাঁদের উপর শারীরিক নির্যাতন করা হয় এবং গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যদিও তার সত্যতা যাচাই করেনি নজরবন্দি

অভিযোগকারীদের বক্তব্যঃ অভিযোগকারী তরুণী বলেন, “আমরা প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করি। কিন্তু হঠাৎ করে তৃণমূল নেতা ও তাঁর দলবল আমাদের আটকে দেন। আমরা কারণ জানতে চাইলে আমাদের মারধর করা হয়।” তাঁদের বাবা একজন প্রাক্তন পুলিশকর্মী, কিন্তু তাঁর সামনেও তাঁদের হেনস্থা করা হয়, যা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন পুরো পরিবার।

অভিযুক্তের পাল্টা সাফাইঃ অন্যদিকে, অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “আবাসনের ভিতরের রাস্তায় বাইক দৌরাত্ম্য বেড়ে গিয়েছিল, যা আবাসিকদের জন্য সমস্যা তৈরি করছিল। তাই রাস্তা বন্ধ করতে বলা হয়েছিল। কোনও মারধর করা হয়নি, কেবল বোঝানো হচ্ছিল।” তিনি আরও দাবি করেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওর সত্যতা নিয়েও সন্দেহ আছে

পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নের মুখেঃ এই ঘটনায় রহড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখনও অভিযুক্ত নেতাকে গ্রেফতার করা হয়নি। এর ফলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই বিষয়ে ব্যারাকপুর কমিশনারেটের ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দ্রবদন ঝাঁ বলেন, “তদন্ত চলছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।”

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়াঃ খড়দার এই ঘটনায় প্রতিবাদে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য,
“একজন প্রাক্তন পুলিশকর্মীর মেয়ের সঙ্গেই যদি এই ধরনের আচরণ করা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?” বিরোধীরা এই ঘটনাকে তৃণমূলের ক্ষমতার অপব্যবহার বলেই কটাক্ষ করছেন।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকাবাসী। এখন দেখার, পুলিশ কী পদক্ষেপ নেয় এবং অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত