ভোট ঘোষণার আগেই প্রস্তুত তৃণমূলের ‘ওয়ার রুম’! প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত

ভোট ঘোষণার আগেই প্রায় প্রস্তুত তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা। জেলা ভিত্তিক সমীকরণে এগোচ্ছে শাসকদল, আর জোট ও আসন বণ্টনের জট কাটাতে ব্যস্ত বিরোধীরা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলার রাজনৈতিক আকাশে ফের নির্বাচনের মেঘ ঘনাচ্ছে, আর তার আগেই শুরু হয়ে গেছে কৌশলের লড়াই। ভোটের নির্ঘণ্ট এখনও ঘোষণা হয়নি, কিন্তু শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই প্রার্থী বাছাইয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে। দীর্ঘ সমীক্ষা, সাংগঠনিক রিপোর্ট ও নির্বাচনী অঙ্ক কষে প্রায় ২৯৪টি আসনের খসড়া প্রার্থীতালিকা তৈরি বলে দলীয় সূত্রের দাবি। অন্যদিকে বিরোধী শিবির এখনও জোট, আসন বণ্টন ও প্রার্থী নির্বাচন নিয়েই অনিশ্চয়তায়। ফলে ভোটের আগেই রাজনৈতিক ময়দানে মানসিক লিড নিতে শুরু করেছে ঘাসফুল শিবির।

রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট, সংগঠনগত প্রস্তুতিতে তৃণমূল অনেকটাই এগিয়ে। বিজেপি এখনও একাধিক জেলায় সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ জোট গঠন হলেও আসন সমঝোতা নিয়ে টানাপোড়েন অব্যাহত। এই পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে প্রার্থী তালিকা সাজিয়ে নির্বাচনী যুদ্ধে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্ব। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্যই নেবেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

কলকাতায় বড় চমক কম, ধারাবাহিকতার উপর জোর

সূত্রের খবর, কলকাতার অধিকাংশ বর্তমান বিধায়কই ফের টিকিট পেতে চলেছেন। ভবানীপুর থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও প্রার্থী হতে পারেন। রাসবিহারীতে দেবাশিস কুমার এবং কলকাতা বন্দরে ফিরহাদ হাকিমের প্রার্থীপদ প্রায় নিশ্চিত।
বালিগঞ্জে আসন পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে—মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় অন্য কেন্দ্রে যেতে পারেন, সেখানে লড়তে পারেন বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। টালিগঞ্জে অরূপ বিশ্বাস প্রায় নিশ্চিত প্রার্থী। বেহালা পশ্চিমে নতুন মুখ আনার সম্ভাবনা জোরালো।

উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় স্থিতিশীলতা

উত্তর ২৪ পরগনার ৩৩টি আসনের অধিকাংশেই প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তবে বারাসতে তিনবারের বিধায়ক চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী নিজে সরে দাঁড়াতে চাইলে নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। সুজিত বসু, মদন মিত্রদের নিজ নিজ আসনে লড়াই প্রায় নিশ্চিত।
দক্ষিণ ২৪ পরগনায় যাদবপুর, সোনারপুর, বারুইপুরে পরীক্ষিত মুখদের উপরেই ভরসা রাখছে দল। কসবায় জাভেদ খানের নাম এগিয়ে। ভাঙড়ে শক্তিশালী প্রার্থী নামিয়ে হারানো জমি পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা চলছে।

নন্দীগ্রাম ও পূর্ব মেদিনীপুরে বিশেষ নজর

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নন্দীগ্রাম কেন্দ্রকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে প্রার্থী বাছাই করছে তৃণমূল। স্থানীয় ‘ভূমিপুত্র’ প্রার্থী আনার সম্ভাবনা জোরালো। চণ্ডীপুরে সোহম চক্রবর্তীর আসন বদল হতে পারে। রামনগরে অখিল গিরি এগিয়ে, হলদিয়ায় তাপসী মণ্ডলের নাম আলোচনায়।

হাওড়া–হুগলি ও দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলা

হাওড়া ও হুগলিতে অধিকাংশ পুরনো মুখই ফের টিকিট পেতে পারেন, যদিও কয়েকটি কেন্দ্রে তরুণ নেতৃত্বকে তুলে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। শিবপুরে প্রার্থী নির্বাচন এখনও শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়। হুগলিতে তারকা প্রার্থী নিয়ে জল্পনা থাকলেও দলীয় সূত্র তা নস্যাৎ করেছে।
মুর্শিদাবাদে কয়েকটি আসনে প্রার্থী বদলের সম্ভাবনা রয়েছে। বীরভূম, বাঁকুড়া ও পশ্চিম বর্ধমানে সীমিত পরিবর্তন হলেও বড় রদবদলের সম্ভাবনা কম।

উত্তরবঙ্গে সূক্ষ্ম রাজনৈতিক অঙ্ক

উত্তরবঙ্গকে ঘিরে কৌশল আরও সতর্ক। রাজবংশী ভোটব্যাঙ্ক, চা-বাগান অঞ্চল এবং পাহাড় রাজনীতির সমীকরণ মাথায় রেখেই প্রার্থী নির্বাচন। কোচবিহারে গত লোকসভা নির্বাচনের ফল তৃণমূলকে আত্মবিশ্বাসী করেছে। বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া কার্শিয়াংয়ের বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা এবং কংগ্রেসত্যাগী শংকর মালাকারের নামও সম্ভাব্য তালিকায় ঘুরছে।

বিরোধীরা এখনও অঙ্ক মেলাতে ব্যস্ত

শাসকদল যখন প্রায় প্রস্তুত, তখন বিরোধী শিবির এখনও জোট সমীকরণে আটকে। কংগ্রেস প্রার্থী সংকটে, বাম ও আইএসএফের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা চলছেই। ফলে ২৯৪ আসনে কে কার বিরুদ্ধে লড়বেন, তা এখনও অনিশ্চিত।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোট ঘোষণার আগেই সংগঠনগত প্রস্তুতিতে এগিয়ে থেকে মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা নিতে চাইছে তৃণমূল। এখন নজর—কারা বাদ পড়ছেন, নতুন মুখ কারা এবং কোন তারকারা এবার সরাসরি নির্বাচনী ময়দানে নামছেন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন