ভোটের আগে হুগলিতে যেন রাজনৈতিক ভূমিকম্প। প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই স্পষ্ট—পুরনো সমীকরণ ভেঙে নতুন কৌশলে এগোচ্ছে তৃণমূল। ১৮টি বিধানসভার মধ্যে ১০টিতেই প্রার্থী বদল করে দল একপ্রকার ‘মেগা রিসেট’-এর পথে হাঁটল। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা, কারণ একাধিক দাপুটে নেতাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং জায়গা করে দেওয়া হয়েছে নতুন মুখদের।
কালীঘাট থেকে ঘোষিত তালিকায় দেখা যাচ্ছে, উত্তরপাড়া আসনে কাঞ্চন মল্লিকের বদলে প্রার্থী করা হয়েছে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র শীর্ষান্ন বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই পরিবর্তন রাজনৈতিক মহলে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
চুঁচুড়াতেও বড়সড় চমক। তিনবারের বিধায়ক এবং প্রভাবশালী নেতা অসিত মজুমদারকে সরিয়ে সেখানে প্রার্থী করা হয়েছে তরুণ মুখ দেবাংশু ভট্টাচার্যকে। টিকিট না পেয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অসিত। তাঁর কথায়, “দল যদি মনে করে অন্য কেউ ভালো করবে, তাহলে আর বলার কিছু নেই। রাজনীতি থেকে বিশ্রাম নিচ্ছি।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট দলের অভ্যন্তরীণ অস্বস্তির ইঙ্গিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যাপক রদবদলের নেপথ্যে রয়েছে ‘অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি’ বা প্রতিষ্ঠানবিরোধী মনোভাব কাটানোর কৌশল। সাম্প্রতিক সময়ে চুঁচুড়ায় বিধায়ক ও সাংসদের মধ্যে দ্বন্দ্ব, উত্তরপাড়ায় গোষ্ঠীকোন্দল—এসবই দলের ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলেছিল। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই এই বড় সিদ্ধান্ত।
শুধু এই দুটি কেন্দ্র নয়, সপ্তগ্রাম ও বলাগড়েও বড় পরিবর্তন এসেছে। সপ্তগ্রামে তপন দাশগুপ্তকে সরিয়ে প্রার্থী করা হয়েছে বিদেশ বসুকে। অন্যদিকে তফসিলি ভোটের সমীকরণ মাথায় রেখে বলাগড়ে মনোরঞ্জন ব্যাপারীর বদলে টিকিট দেওয়া হয়েছে রঞ্জন ধারাকে।
মনোরঞ্জন ব্যাপারীও সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
সব মিলিয়ে, হুগলিতে তৃণমূলের এই প্রার্থী তালিকা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—দল এবার পুরনো মুখের উপর নির্ভর না করে নতুন সমীকরণে বাজি ধরছে। তবে এই ‘ঝড়’ ভোটে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।



