বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলের অন্দরে অসন্তোষ আরও প্রকাশ্যে। এবার জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। পদত্যাগের পাশাপাশি তিনি নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে যুক্ত ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের বিরুদ্ধে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের আগে তাঁকে চাপ ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছিল এবং ওই সংস্থা দলের সাংগঠনিক কাঠামোর ক্ষতি করেছে।
রাজনৈতিক মহলে এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই দেখা হচ্ছে। কারণ, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের ভিতরে আত্মসমালোচনা, দায় নির্ধারণ এবং সংগঠন পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। সেই আবহে কাকলির এই সিদ্ধান্ত নতুন করে জল্পনা বাড়াল।


সম্প্রতি লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্য সচেতকের পদ থেকেও সরানো হয় কাকলিকে। তাঁর জায়গায় ফের দায়িত্ব দেওয়া হয় Kalyan Banerjee-কে। ওই সিদ্ধান্তের পর সমাজমাধ্যমে কাকলির একটি পোস্ট রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করে। সেখানে তিনি লেখেন, দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক আনুগত্যের এমন মূল্যায়ন তিনি আশা করেননি।
অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলে আরও আলোচনা তৈরি হয়েছে তাঁর নিরাপত্তা ইস্যু নিয়েও। রাজ্যের একাধিক তৃণমূল নেতার নিরাপত্তায় কাটছাঁটের আবহে কাকলিকে কেন্দ্রীয় ওয়াই প্লাস নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে বলে খবর সামনে এসেছে।
উত্তর ২৪ পরগনায় তৃণমূলের ফল প্রত্যাশার তুলনায় অনেক দুর্বল হওয়াও এই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, সংগঠন পরিচালনা, প্রার্থী নির্বাচন এবং নির্বাচনী কৌশল নিয়ে দলের ভিতরে প্রশ্ন বাড়ছে।


যদিও তৃণমূলের তরফে কাকলির অভিযোগ নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। আইপ্যাকের পক্ষ থেকেও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে কাকলির এই পদত্যাগ শুধুই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নাকি বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা— এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



