নজরবন্দি ব্যুরো: বনেদি বাড়ির দুর্গাপূজার নিজস্ব একটা আকর্ষণ রয়েছে। যা চাকচিক্যে ভরপুর নয়, তবে আন্তরিকতা ও পুজোর আচার বিধি অতি অবশ্যই মন ভরিয়ে দেয়। এইরকম আন্তরিকতা ও পুরনো পুজোর আচার বিধি অনুযায়ী ব্যারাকপুরের দাশগুপ্ত বাড়িতে পূজিত হন দেবী দুর্গা। ব্যারাকপুরের কালিয়া নিবাস বা কবিরাজ বাড়ির দাশগুপ্ত পরিবারের এই পুজো ৪০০ বছরে পদার্পন করেছে।
আরও পড়ুন: রেশন দুর্নীতিকাণ্ডে গ্রেফতার বাকিবুর, ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার প্রচুর নথি
জানা গিয়েছে, ৪০০ বছরের এই পুজোর সূত্রপাত হয় অধুনা বাংলাদেশের যশোর জেলার সেনহাটি গ্রামে। সেই সময় এই পুজোর সূচনা করেন মধুসূদন দাশগুপ্ত। শুধু তাই নয়, এই বাড়ির পুজোর আচার বিধিতে তান্ত্রিক ধর্মের স্পষ্ট প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। এবং এখানেই পুরনো প্রথা মেনে চলতে থাকে পুজো।

এবার আসি এই বাড়ির পুজোর আচার বিধির কথায়। এই পরিবারের পুজো হয় শাক্ত নিয়ম মেনে। এখানে দেবীকে সমস্ত স্বর্গীয় শক্তির মূর্ত প্রতীক, সমস্ত জগতের মা রূপে পুজো করা হয়। এখানে মায়ের পুজো হয় কালিকা পুরাণের নিয়ম অনুসারে। এই পূজোর বিধি এবং সমস্ত নিয়ম কানুন সংকলন করেন নরহরি দাস। নরহরি দাসের করা সংকলনটি বহুবার অনুলিপি করা হয় এবং প্রথমে ১৮৮৫ সালে এবং তারপর ১৯৬৫ সালে মুদ্রিত হয় এবং এটিই এই সংকলনের শেষ সংস্করণ। বর্তমান পূজা বিধি শেষ সংস্করণকেই অনুসরণ করে। এখানে মা দুর্গাকে মদের সঙ্গে আমিষ খাবার দেওয়া হয়, কারণ তান্ত্রিক গ্রন্থ ও কালিকা পূরণ অনুযায়ী দেবী দুর্গা মহিষাশুর বধের সময়, অতিরিক্ত শক্তি অর্জনের জন্য মদ পান করে নিজেকে নেশাগ্রস্ত করেছিলেন।

এছাড়াও, পশু বলি ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত পূজার একটি অংশ ছিল, যা এখন সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ। এই পরিবারের বর্তমান কর্ণধার ৬২ বছর বয়সী সুব্রত দাশগুপ্ত বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষদের তান্ত্রিক পটভূমির কারণে, দেবী দুর্গাকে রক্ত দেওয়া ছিল পূজার একটি অন্তর্নিহিত অঙ্গ। প্রতিপদ ও পূজার অন্যান্য দিনেও পশু বলি হতো। আমি আনন্দিত কারণ, এখন এই ব্যাপারগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছে।”
পুরনো প্রথা মেনেই দেবীর আরাধনা, শাক্ত নিয়ম মেনে এই পরিবারের পুজো হয়









