ময়নাগুড়ি, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ রেল লাইনে ত্রুটি অথবা অতিরিক্ত গতি নয়। ইঞ্জিনে ত্রুটির কারণেই দুর্ঘটনা। আপ বিকানের এক্সপ্রেসের লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইঞ্জিনের একটি ট্যাকশন মোটর ভেঙে পড়েছিল। তাতেই ঘটে বিপত্তি। ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৩৬ জন।
এ দিন সকালে পৌঁছে ট্রলিতে চেপে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর এমনই দাবি করেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব৷ তাঁর দাবি, “ইঞ্জিনে কী ধরনের ত্রুটি ছিল বা তার পিছনে কী কারণ ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷ রেলমন্ত্রী আরো বলেন খুব দুঃখজনক ঘটনা, উদ্ধার কাজ শেষ করা গেছে, খুব শিগগিরই তদন্ত শেষ হবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন রেলমন্ত্রী।”
রেলমন্ত্রীর আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গোটা বিষয়টির ওপর নজর রাখছেন। তিনি প্রতিনিয়ত খোঁজখবর নিচ্ছেন।” একইসঙ্গে হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে দুর্ঘটনাস্থলে রয়েছেন রেলের উচ্চপদস্থ কর্তারা। এদিন সকালেই দুর্ঘটনাস্থলে যান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বারলা। দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তিনি।রেল সূত্রে খবর, আজ রাতেই শিলিগুড়িতে পৌঁছবেন কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি৷ আগামিকাল থেকে টানা পাচ দিন দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করবেন তিনি৷
এদিকে দুর্ঘটনার পর প্রথম থেকেই মনে করা হচ্ছিল, সম্ভবত রেল লাইনে ফাটলের মতো কোনও সমস্যার কারণেই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে৷ যাত্রীদের একাংশের দাবি ছিল, অস্বাভাবিক গতিতে ছুটছিল ট্রেন।

কিন্তু আজ সকালে রেলকর্তাদের নিয়ে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর রেলমন্ত্রী বলেন, “আমি নির্দিষ্ট ভাবে বলছি, এই দুর্ঘটনার সঙ্গে রেল লাইনের ত্রুটি বা অতিরিক্ত গতির কোনও সম্পর্ক নেই৷ যেটুকু আমি বুঝতে পেরেছি, ইঞ্জিনের কোনও ত্রুটির কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে৷ তবে কেন এই ত্রুটি হল, নির্দিষ্ট যন্ত্রাংশ খুলে পরীক্ষার পরই তা বোঝা সম্ভব হবে৷”
রেলমন্ত্রী দাবি করেন, যেহেতু দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে, তাই তদন্ত রিপোর্ট আসতেও খুব বেশি সময় লাগবে না৷ তবে আরও একটি অভিযোগ ছিল, পুরনো আমলের আইসিএফ কোচ ব্যবহারের ফলেই দুর্ঘটনার অভিঘাত কামরাগুলির উপরে বেশি পড়েছে৷ একটি কামরার উপরে আর একটি কামরা উঠে গিয়েছে বা সম্পূর্ণ উল্টে গিয়েছে৷ বিকানের এক্সপ্রেসে কেন এলএইচবি কোচ ব্যবহার করা হয়নি, রেলমন্ত্রীকে সেই প্রশ্নও করা হয়৷

যদিও রেলমন্ত্রী সরাসরি সেই প্রশ্নের জবাব না দিয়ে বলেন, সব ট্রেনে এলএইচবি কোচ ব্যবহার করার প্রক্রিয়া চলছে৷ তবে আইসিএফ কোচের ব্যবহার দুর্ঘটনার কারণ নয় বলেও বোঝানোর চেষ্টা করেছেন অশ্বিনী বৈষ্ণব৷
অপরদিকে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বার্লাকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব৷ শুক্রবার জলপাইগুড়ি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি। সঙ্গে রয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বারলা, হাসপাতালের সুপার গয়ানাথ নস্কর, বিজেপির জেলা সভাপতি বাপী গোস্বামী। হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গেও কথা বলছেন রেলমন্ত্রীর। সরকারি মতে দুর্ঘটনায় আহত অন্তত ৪২ জন বর্তমানে জলপাইগুড়ি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যদিও বেসরকারি মতে আহতদের সংখ্যাটা আরো বেশী বলে জানা গেছে। আশঙ্কাজনক বেশ কয়েকজনকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। সেখানেই তাঁদের চিকিৎসা চলছে।
ইঞ্জিনে ত্রুটির কারণেই দুর্ঘটনা, প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্ট

বৃহস্পতিবার ময়নাগুড়ি-দোমহনি স্টেশনের মাঝে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে। বিকানের থেকে গুয়াহাটি যাওয়ার সময় আপ গুয়াহাটি-বিকানির এক্সপ্রেস (১৫৬৩৩) লাইনচ্যুত হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ১২টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। ট্রেনে ১২০০-এর বেশি যাত্রী ছিলেন। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত হয়েছেন বহু যাত্রী। উদ্ধারকাজ শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ঘটনাস্থলে রয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতাল এবং জলপাইগুড়ি সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এরমধ্যে বেশ কয়েকজনকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। কী কারণে এই দুর্ঘটনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনায় উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রেল।



