নজরবন্দি ব্যুরো: বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে এবার মাঠে নামলেন ভোটকৌশলী পিকে। আজ একটি টুইটে বিজেপি-র উদ্দেশ্যে পিকে মন্তব্য করেন, ‘বাংলার নির্বাচনের দু’অঙ্ক পেরতে বিজেপিকে যথেষ্ট কষ্ট করতে হবে।‘ এরপরই বিশেষ দ্রষ্টব্য দিয়ে তিনি নিচে লেখেন, ‘যদি এর চেয়ে ভাল ফল হয় বিজেপির, তাহলে তিনি কাজ ছেড়ে দেবেন।‘
আরও পড়ুন: তৃণমূলে যোগ দিতেই সুজাতা-কে বিবাহ বিচ্ছেদের নোটিশ সৌমিত্রর!


সদ্য দল ছেড়েছেন শুভেন্দু অধিকারীর মত দাপুটে নেতা। তাঁর সঙ্গে দল ছেড়েছেন আরও কয়েকজন হেভিওয়েট বিধায়ক। তাতেই রাজ্য-রাজনীতিতে শাসকদলের বিধানসভা ভোটের আসন পাওয়া নিয়ে রীতিমত চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকদিনের জল্পনাকে জিইয়ে রেখে শুভেন্দুর সঙ্গে একে একে দলের ভাঙ্গন ধরিয়ে বিজেপির দলীয় পতাকা তুলে নিয়েছেন, শীলভদ্র-উদয়ন-বনশ্রী সহ আরও অনেকে।
তৃণমূলের নেতা, কর্মীদেরও একাংশের বক্তব্য, প্রশান্ত কিশোর তৃণমূলের ভোট স্ট্র্যাটেজিস্টের দায়িত্ব নেওয়ার পরেই দলে ভাঙন ধরা শুরু হয়েছে। শাহর গত দুদিনের কর্মসূচি নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে পাল্টা তত্ত্বও উঠে এসেছে। তবে গুছিয়ে জবাব দিতেই টুইটে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন পিকে। সঙ্গে নেত্রীকেও বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর রণকৌশল যদি কাজ না করে, তাহলে রাজনীতির পরিসর ছেড়ে চলে যাবেন তিনি। পিকের হাতে ঘুঁটি সাজানোর দায়িত্ব দিয়েছেন নেত্রী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বক্তব্য, সামনের বিধানসভা তৃণমূলের অগ্নিপরীক্ষা। সমস্ত শীর্ষ নেতৃত্বকে নির্বাচনী শক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন নেত্রী। তাই নিঃসন্দেহে পিকে-র দায়িত্ব যে অনেক বড় তা বোঝাই জায়। তবে পিকে-র টুইটের পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়।
তিনি মন্তব্য করেন, ‘বাংলায় বিজেপি-র যে সুনাম চলছে, তাতে সরকার গঠন করার পরে এই দেশ একজন নির্বাচনী রাজনীতিকারকে হারাবে।’ এছাড়া বহিরাগত ইস্যুতেও প্রশান্ত কিশোরকেই টার্গেট করেছে বিজেপি। কয়েক দিন আগেই কৈলাস বিজয়বর্গীয় কটাক্ষ করে বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোটা দলটাই পিকে-র কাছে বন্ধক রেখে দিয়েছেন। প্রশান্ত কিশোর তো বিহারের বাসিন্দা। আমরা যদি বহিরাগত হই, তা হলে তিনিও বহিরাগত।’ প্রশান্ত কিশোর দলের দায়িত্ব নিয়েই ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি নিয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে তা সফলও হয়েছিল। ‘দিদিকে বলো’-তে অভিযোগ রেকর্ড করা হলেও তাতে অনেক মানুষের সন্তুষ্টি হয়নি। সমস্যা রয়েই গিয়েছে।


ডাবল ডিজিট ক্রশ করতে পারবে না বিজেপি, ‘দিদিকে বলো’র পর ‘বাংলার গর্ব মমতা’ শুরু করেছিলেন প্রশান্ত কিশোর। বর্তমানে শুরু হয়েছে ‘দুয়ারে সরকার’ প্রকল্প । তাতে অবশ্য এখনও পর্যন্ত যথেষ্ট সন্তোষজনক ফল পাওয়া গিয়েছে। তবে ২১ এর নির্বাচনে বিজেপি যেভাবে বাংলায় ভোট জেতার লক্ষ্যে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তাতে তৃণমূল কতটা সন্তোষজনক ফল এনে দিতে পারে তা এখন দেখার অপেক্ষা।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



