হ্যাং ইয়োর করোনা। টেট নিয়ে রাজ্যকে নজিরবিহীন ধমক হাইকোর্টের।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ হ্যাং ইয়োর করোনা। এভাবেই বিচারপতির কাছে ধমক খেলেন পর্ষদের আইনজীবী। টেট মামলায় মুখ পুড়ল রাজ্য সরকারের। বিচারপতির কাছে কার্যত ধমক খেল পর্ষদ। ২০১৭ সালের টেট পরীক্ষায় প্রশিক্ষণরত ২০১৮ থেকে ২০ ব্যাচের পিটিশনারদের বসতে দেওয়ার অর্ডার জারি করেছিল হাইকোর্টের সিঙ্গেল বেঞ্চ। যার পরীক্ষা হয়েছে ২০২১ সালের ৩১শে জানুয়ারি। আর সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে মামলাও করেছিল প্রাইমারি শিক্ষা পর্ষদ। আজ সেই মামলার শুনানি হয়।

আরও পড়ুনঃ নজরবন্দির খবরে শিলমোহর, ১২ই ফেব্রুয়ারি থেকে স্কুল খুলছে রাজ্যে।

মামলার শুনানি চলাকালীন পর্ষদ তথা সরকারপক্ষের আইনজীবী লক্ষী গুপ্তকে রীতিমত ধমক খেতে হয় বিচারপতির কাছে। পর্ষদের আইনজীবী লক্ষ্মী গুপ্ত এদিন হাইকোর্টে বলেন, ‘‘টেটের বিজ্ঞপ্তি জারি হয় ২০১৭ সালে, কিন্তু মামলাকারীরা এলিজিবল হয়েছিল ২০১৮ সালে। তাই টেট যদি ২০১৮ সালে হত তাহলেও তারা আর আবেদন করতে পারতেন না।

তখন হাইকোর্টের বিচারপতি প্রশ্ন করেন, কেন ২০১৭ সালের দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ি টেট পরীক্ষা ২০১৮ সালে হলনা? কেন চার বছর পর ২০২১ সালে নেওয়া হল টেট? পাশাপাশি তিনি জানতে চান কত শূণ্যপদ রয়েছে? জবাবে পর্ষদের আইনজীবী জানান, প্রতি বছর টেট পরীক্ষা নেওয়ার গাইডলাইন ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশন (এনসিটিই)-তে থাকলেও তা বাধ্যতামূলক নয়। রাজ্য নিজের সুবিধা ও সুযোগ বুঝে নিতে পারে। তিনি আদালত কে আরও বলেন শূন্যপদের সংখ্যা নোটিশে জানানো হবে।

এরপর বিচারপতি জানতে চান নোটিশ কবে বেরোবে? উত্তরে পর্ষদের আইনজীবী বলেন টেটের রেজাল্ট বেরোনোর পর নোটিশ হবে। বিচারপতি প্রশ্ন করেন, রেজাল্ট কবে বেরোবে? পর্ষদের আইনজীবী লক্ষ্মী গুপ্ত তখন বলেন প্রায় আড়াই লক্ষ চাকরিপ্রার্থী পরীক্ষা দিয়েছে, তাই একটু সময় লাগবে… অন্তত ১ মাস তো বটেই।

হ্যাং ইয়োর করোনা। এরপরেই চূড়ান্ত ধমক খান সরকারপক্ষ তথা পর্ষদের আইনজীবী। বিচারপতি প্রশ্ন করেন, আপনারা এতদিন পরীক্ষা নেননি কেন? জবাবে পর্ষদের আইনজীবী বলেন, করোনা ছিল! বিচারপতি তৎক্ষণাৎ বলে ওঠেন, হ্যাং ইয়োর করোনা। করোনা কি ২০১৮তে ছিল, ২০১৯-এ ছিল। কী করছিলেন তখন?

এরপর বিচারপতি জানতে চান, প্রতিবছর স্কুলে ভ্যাকেন্সি তৈরি হয়। আর আপনারা ৪ বছর পরে টেট নিচ্ছেন। সুতরাং ২০১৭-তে যে যে স্কুলে ভ্যাকেন্সি তৈরি হয়েছিল সেটা ৪ বছর ধরে ফাঁকা পড়ে আছে! এই শূন্যতা কীভাবে পূরণ করা হবে? সরকারি আইনজীবী তখন বলেন, সেই জন্যেই তো ১৬,৫০০ জন কে নিয়োগ করা হচ্ছে। বিচারপতি তখন তীব্র ভর্তসনা করে বলেন, শিক্ষার অধিকার আইন নিয়ে আপনারা ছিনিমিনি খেলেছেন। এরপরেই বুধবার অর্থাৎ ৩ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টোয় ফের শুনানির কথা জানান তিনি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Arka Sana

Arka Sana

Founder & Editor, Najarbandi
16+ Years Experience • Political Reporting • Investigative Journalism • Digital Publishing

অর্ক সানা একজন সাংবাদিক, সম্পাদক, মিডিয়া উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। অপরাধ সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক রিপোর্টিং, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং ডিজিটাল নিউজ প্রকাশনায় তাঁর ১৬ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি নজরবন্দি-র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক।

View Full Author Profile →

বিজ্ঞাপন

আরও খবর