নজরবন্দি ব্যুরোঃ নজরবন্দির খবরে শিলমোহর, ১২ই ফেব্রুয়ারি থেকে স্কুল খুলছে রাজ্যে। UGC যেখানে গত বছরের নভেম্বর থেকে শিক্ষাঙ্গনে পঠন-পাঠন শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল, ঠিক সেই জায়গায় দাঁড়িয়েই পশ্চিমবঙ্গ সরকার উল্টো পথেই হেঁটে চলার সিদ্ধান্ত নেয়। কারন ছিল করোনাভাইরাস। করোনার জেরে বহুদিন ধরেই বন্ধ রাজ্যের স্কুল-কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যার জেরে সবথেকে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ছাত্রছাত্রীরা। তাই এবার তাঁদের কথা মাথায় রেখে অবশেষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবার স্কুল খোলার ভাবনা রাজ্য সরকারের।
আরও পড়ুনঃ ক্ষমতা থাকলে বৈশাখী একা বেহালায় আসুক! চ্যালেঞ্জ রত্নার।
স্কুল খোলার ব্যাপারে জানুয়ারি মাসে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁরপর সেই বিষয়ে আর নতুন কোন তথ্য সামনে আসেনি। সেদিন রাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলি খোলার ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রীকে প্রশ্ন করলে তিনি(পার্থ চট্টোপাধ্যায়) বলেন, “আমি বলে দিয়েছি স্কুল-কলেজ সব ইতিমধ্যে স্যানিটাইজ় করার কাজ শুরু করতে। রাজ্য সরকার যেদিন খুশি স্কুল খোলার নির্দেশ দিতে পারে। কোন রাজ্য কী করছে জানি না। কিন্তু আমাদেরকে তৈরি থাকতে হবে। সর্বপ্রথম কাজ হচ্ছে জীবাণুমুক্ত করা।”
নজরবন্দির খবরে শিলমোহর। নজরবন্দির প্রতিনিধিকে শিক্ষা দফতরের সূত্র জানিয়েছিল, সবকিছু ঠিক থাকলে ফেব্রুয়ারি মাসেই রাজ্যে খুলতে চলেছে শিক্ষাঙ্গন। শিক্ষাদফতর সূত্র জানিয়েছে, স্কুল খোলার অন্যতম কারন হল মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। চলতি মাসেই স্কুল খুলতে পারে রাজ্যে বলে জানিয়েছে সূত্র। কিন্তু কত তারিখ থেকে খুলবে স্কুল সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে আলোচনার পরেই। স্কুল যে খুলতে চলেছে সে ব্যাপারে একপ্রকার নিশ্চিত শিক্ষা দফতর। আর আজ সেই বিষয়েই মুখ খুললেন শিক্ষামন্ত্রী।
মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠক চলাকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় রাজ্যের এই ভাবনার কথা জানান। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজ্য সরকার স্কুল খোলার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করছে। যদি খোলা হয়, তবে আপাতত মাত্র চারটি ক্লাস খোলা হবে। নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস খোলার ভাবনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। এবং তা সমস্ত স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ করেই হবে বলে জানিয়েছেন পার্থ।
করোনা পরিস্থিতির জেরে গত বছর মার্চ মাস থেকে দেশজুড়ে স্কুল-কলেজ বন্ধ। অতিসম্প্রতি দিল্লি সরকার রাজধানীতেও স্কুল খোলার কথা ঘোষণা করেছে। অন্য সব কর্মকাণ্ড ক্রমশই স্বাভাবিক হয়ে এলেও স্কুল-কলেজে গিয়ে পঠনপাঠন প্রক্রিয়া এখনও রাজ্যে শুরু হয়নি। এই নিয়ে পড়ুয়াদের পাশাপাশি অভিভাবকদের উদ্বেগের সীমা নেই। তবে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর আজকের ঘোষণায় কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলবে।



