নেপালে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর কেটে গিয়েছে ১৭ দিন। তবু কোনও খোঁজ নেই মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা রায়ের। শেষবার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর থেকেই অপেক্ষায় শুভ্রাংশু রায়—একটি ফোন, একটি খবরের আশায় দিন গুনছে গোটা পরিবার। এর মধ্যেই চিনের বিদেশ মন্ত্রকের একটি বক্তব্য নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে বলে দাবি শুভ্রাংশুর। নেপালে আটকে পড়া ৫০০-র বেশি ভারতীয় তীর্থযাত্রীকে উদ্ধারের বিষয়ে চিন বিষয়টি নজরে রাখছে—এমন বক্তব্যের ভিডিওই সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছেন তিনি।
শুভ্রাংশুর আশা, দুর্গম কোনও এলাকায় এখনও অনেক ভারতীয় আটকে থাকতে পারেন। সেই কারণেই চিনের বিদেশ মন্ত্রকের ওই বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন তিনি। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি শেয়ার করে ভারত সরকারের কাছে আটকে থাকা ভারতীয়দের বিষয়ে সরকারি ভাবে তথ্য যাচাই করে জানানোর আবেদন জানিয়েছেন মুকুল-পুত্র।
পোস্টে শুভ্রাংশু লিখেছেন, আশাবাদী মন নিয়ে ৫০০-র বেশি আটকে থাকা মানুষকে উদ্ধারের ওই ভিডিও তাঁরা ভাগ করে নিচ্ছেন। তাঁর আবেদন, সংশ্লিষ্ট রিপোর্টগুলি যেন ভারত সরকার যাচাই করে দেখে এবং নিখোঁজ প্রিয়জনদের বিষয়ে পরিবারগুলিকে সরকারি ভাবে তথ্য জানানো হয়।
শুভ্রাংশুর বক্তব্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি নজর কেড়েছে, তা হল শর্মিষ্ঠাকে নিয়ে তাঁর আশা। এখনও কোনও নিশ্চিত তথ্য না এলেও তাঁর বিশ্বাস, স্ত্রী নিরাপদেই কোথাও রয়েছেন। সেই বিশ্বাস আঁকড়েই অপেক্ষা করছে রায় পরিবার।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২১ আগস্ট হাওড়া থেকে একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন শর্মিষ্ঠা। সেখানে পৌঁছনোর পর একাধিকবার স্বামীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ হয়েছিল। সবকিছু স্বাভাবিকই ছিল বলে পরিবারের তরফে জানা যায়।
এরপর ২৫ আগস্ট রাতে শেষবার শুভ্রাংশুর সঙ্গে কথা হয় শর্মিষ্ঠার। সেই ফোনালাপের পরই পরিস্থিতি বদলে যায়। ২৬ আগস্ট সকাল থেকে নেপালের বিভিন্ন এলাকায় হড়পা বান ও বিপর্যয় পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকেই উদ্বেগে পড়েন শুভ্রাংশু। বারবার ফোন করেও কোনও সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। শুরু হয় প্রশাসনিক স্তরে খোঁজ চালানোর চেষ্টা।
পরিবারের তরফে স্থানীয় থানা থেকে শুরু করে ভবানী ভবন, বিদেশ মন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। শর্মিষ্ঠার সন্ধানে বিভিন্ন স্তরে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা চললেও এখনও পর্যন্ত পরিবারের হাতে নিশ্চিত কোনও খবর এসে পৌঁছয়নি।
এর মধ্যেই ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর প্রক্রিয়াও হয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে। কিন্তু সেই পরীক্ষার ফল বা প্রশাসনের তরফে কোনও নিশ্চিত তথ্য এখনও পরিবারের কাছে পৌঁছয়নি।
ফলে একদিকে যেমন উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে, অন্যদিকে শুভ্রাংশু ও তাঁর পরিবারের আশা এখনও শেষ হয়ে যায়নি। কোনও দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় কেউ আটকে থাকলে উদ্ধারকারী দলের কাছে পৌঁছতে সময় লাগতে পারে—এই সম্ভাবনাও তাঁরা উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
নেপালের বিপর্যয়ের পর বহু পর্যটক ও তীর্থযাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর সামনে এসেছিল। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান চালানোও কঠিন হয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতিতেই চিনের বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে আশাবাদী হয়েছে শর্মিষ্ঠার পরিবার। তবে ওই বক্তব্যের ভিত্তিতে শর্মিষ্ঠা নিরাপদে রয়েছেন—এমন কোনও নিশ্চিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তাই পরিবারের আশা এবং সরকারি ভাবে নিশ্চিত তথ্য—দুই বিষয়কে আলাদা করে দেখা জরুরি।
শুভ্রাংশুর সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে সেই অপেক্ষার ছবিই স্পষ্ট। ১৭ দিন ধরে কোনও নিশ্চিত খবর নেই, তবু স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার আশা ছাড়তে নারাজ তিনি। রায় পরিবারের কাছে এখন প্রতিটি ফোনকল, প্রতিটি সরকারি বার্তা এবং উদ্ধার সংক্রান্ত প্রতিটি তথ্যই গুরুত্বপূর্ণ।
শর্মিষ্ঠা কোথায় রয়েছেন, তিনি নিরাপদে আছেন কি না—এই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। তবে পরিবার চাইছে, নেপালে আটকে থাকা ভারতীয়দের বিষয়ে বিভিন্ন সূত্রে যে তথ্য সামনে আসছে, তা দ্রুত যাচাই করে সরকারিভাবে স্পষ্ট করা হোক। সেই নিশ্চিত খবরের অপেক্ষাতেই দিন গুনছে শুভ্রাংশু এবং তাঁর পরিবার।



