নজরবন্দি ব্যুরোঃ ক্ষমতা থাকলে বৈশাখী একা বেহালায় আসুক! এভাবেই বৈশাখী-কে একা বেহালায় ঢোকার চ্যালেঞ্জ জানালেন শোভন রত্নার।মঙ্গলবার বিজেপি-র হয়ে বেহালায় প্রচারে যাচ্ছেন শোভন-বৈশাখী জুটি। যদিও তাঁদের মিছিলের আগেই বেহালায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পদযাত্রা করেছে তৃণমূল। সেই মিছিলেই যোগ দিয়েছিলেন শোভনের স্ত্রী রত্না। মিছিল থেকে রত্না বৈশাখী বন্দোপাধ্যায় কে তীব্র কটাক্ষ করেন। কার্যত চ্যালেঞ্জ করেন বৈশাখী বন্দোপাধ্যায় কে। তিনি বলেন, একবার শোভন চট্টোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে একা বেহালায় ঢুকে দেখান! দেখবেন বেহালার মানুষ ওঁকে কী করে!
আরও পড়ুনঃ সম্পর্কে ফিরতে চাননি। বান্ধবীকে অ্যাসিড ছুড়ে মারল ‘পুরনো বন্ধু’


সোমবার পর্যন্ত শোভন-বৈশাখীর বেহালা পদযাত্রা নিয়ে উচ্চবাচ্য করেননি রত্না। কিন্তু মঙ্গলবার মিছিলের আগে তিনি নীরবতা ভাঙেন। তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সঙ্গঠিত হওা মিছিলে এদিন মানুষের ঢল নামে। সেই মিছিলে অংশ নিয়েই শোভন-বৈশাখীকে তীব্র কটাক্ষ করেন রত্না। তাঁর কথায়, ‘‘ওঁরা মুখে মেক-আপ, গায়ে গয়না পরে নববিবাহিত দম্পতি সেজে সব জায়গায় যাচ্ছেন। বেহালাতেও আসছেন। এতে বেহালার মানুষ হাসছেন। হয়তো ওঁরা এখন শোভনবাবুকে কিছু বলবেন না। কিন্তু ব্যালটে এর প্রতিফলন বিজেপি দেখতে পাবে। বেহালা পূর্ব এবং পশ্চিম, দু’টি কেন্দ্রেই এর ফল দেখতে পাবে বিজেপি।’’
ক্ষমতা থাকলে বৈশাখী একা বেহালায় আসুক! বৈশাখীর নাম না করে রত্না বলেন, ‘‘উনি শোভনের সঙ্গে আসছেন বলে হয়তো বেহালার মানুষ ওঁকে কিছু বলবেন না। কিন্তু একবার শোভন চট্টোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে একা বেহালায় ঢুকে দেখান! দেখবেন বেহালার মানুষ ওঁকে কী করে!’’ রত্নার কথার সূত্র ধরেই কলকাতা কর্পোরেশনের প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘‘বেহালার মানুষ এটা ভাল ভাবে নেবেন না। ওর বেহালায় একটা প্রভাব ছিল। আমি যেমন চেতলার ছেলে। সেখানে আমায় সকলে চেনেন, জানেন, ভালবাসেন। কিন্তু শোভন বেহালার মানুষের কথা ভাবেনি। তাদের ছেড়ে চলে গিয়েছে। ও বুঝতে পারছে না, বিজেপি ওকে ব্যবহার করে ছুড়ে ফেলে দেবে।’’
পাশাপাশি শোভন বেহালা পূর্বের বিধায়ক হয়েও গত ৩ বছর নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে আসেননি সেকথা মনে করিয়ে খোঁচা দেন রত্না। রত্না বলেন, ‘‘সাড়ে তিন বছর উনি বেহালার দিকে ফিরেও তাকাননি। আর এখন আসছেন পদযাত্রা করতে!’’ অন্যদিকে তৃণমূলের ভোট কতটা কাটতে পারেন শোভন সেই প্রসঙ্গে রত্না বলেন, ‘‘উনি ওই মহিলাকে নিয়ে যত রাস্তায় নামবেন, তৃণমূলের ভোট তত বাড়বে। একজন মানুষ সন্তানদের ভুলে পরস্ত্রীকে নিয়ে ঘর করছেন। এসব বাংলায় চলে না। বাংলার মানুষ কোনওদিন এসব মেনে নেননি। নেবেনও না।’’


রত্না এদিন জানিয়ে দেন, কলকাতা পুরসভার নির্বাচনে তিনি শোভনের ১৩১ নম্বর ওয়ার্ডে লড়বেন জোড়াফুল চিহ্নে। তাঁর কথায়, ‘‘শোভন এই ওয়ার্ডে দাঁড়াবেন বলে মনে হয় না। দাঁড়ালে মুখোমুখি লড়াই হবে এবং ওঁর জামানত জব্দ হবে! কিন্তু উনি গত সাড়ে তিন বছর ধরে এই ওয়ার্ডের মানুষের দিকে ফিরেও তাকাননি। শুধু নিজের জীবন নিয়ে ব্যস্ত থেকেছেন। মানুষ কি সেগুলো সব ভুলে গিয়েছেন?’’







