তৃণমূল ভবন বিতর্কে নতুন মোড়! থানায় কুণাল-চন্দ্রিমা, পুলিশকে পদক্ষেপ না-করার আবেদন

তৃণমূল ভবন বিতর্কে প্রগতি ময়দান থানায় গেলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও কুণাল ঘোষ। বাড়ি ভাড়ার নথি জমা দিয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না-করার আবেদন জানাল দল।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তৃণমূল ভবন বিতর্ক ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই এবার সরাসরি থানার দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। সোমবার প্রগতি ময়দান থানায় গিয়ে বাড়ি ভাড়ার নথি ও লিখিত আবেদন জমা দেন রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁদের বক্তব্য, অস্থায়ী কার্যালয় সরানোর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে, তাই প্রশাসনের কোনও হস্তক্ষেপ পরিস্থিতি জটিল করে তুলতে পারে।

তৃণমূলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত মেট্রোপলিটনের ওই বহুতলকে ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। ভবনের মালিক মনোতোষ সাহা ওরফে মন্টু অভিযোগ করেছেন, একাধিকবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তৃণমূল এখনও ভবনটি খালি করেনি।

এই পরিস্থিতিতে সোমবার প্রগতি ময়দান থানায় পৌঁছে দলীয় প্রতিনিধিরা বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র পুলিশের হাতে তুলে দেন। পাশাপাশি একটি লিখিত আবেদনও জমা দেওয়া হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, অস্থায়ী কার্যালয় অন্যত্র স্থানান্তরের কাজ চলমান রয়েছে এবং সেই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ বা প্রশাসনের তরফে কোনও পদক্ষেপ না নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই মুহূর্তে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ হলে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণেই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে থানার কাছে।

উল্লেখ্য, বাইপাস সংলগ্ন উত্তর পঞ্চান্ন গ্রামে থাকা তৃণমূলের স্থায়ী সদর দফতর পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্তের পর ২০২১ সালে মেট্রোপলিটনের এই বহুতলে গড়ে ওঠে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়। ভবনের মালিকের দাবি, ২০২৫ সালেই ভাড়ার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও ভবন খালি করা হয়নি।

মনোতোষ আরও অভিযোগ করেছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তিনি তৃণমূল নেতৃত্বকে পুনরায় ভবন ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু সেই আবেদনেও কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। এরপরই তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে জানান।

প্রসঙ্গত, মনোতোষের সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে মাইক, মঞ্চ এবং ডেকরেশন সামগ্রী সরবরাহ করত। সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কাজও পেত তাঁর প্রতিষ্ঠান। সেই সম্পর্কের ভিত্তিতেই দলকে নিজের ভবন ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিলেন বলে দাবি তাঁর। তবে মনোতোষের অভিযোগ, একাধিক কর্মসূচির বকেয়া অর্থ এখনও তাঁর হাতে পৌঁছায়নি। সেই আর্থিক বকেয়া এবং ভবন খালি না-হওয়া— দুই ইস্যুকেই কেন্দ্র করে এখন নতুন করে চাপে পড়েছে তৃণমূলের অস্থায়ী কার্যালয় বিতর্ক।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Arka Sana

Arka Sana

Founder & Editor, Najarbandi
16+ Years Experience • Political Reporting • Investigative Journalism • Digital Publishing

অর্ক সানা একজন সাংবাদিক, সম্পাদক, মিডিয়া উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। অপরাধ সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক রিপোর্টিং, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং ডিজিটাল নিউজ প্রকাশনায় তাঁর ১৬ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি নজরবন্দি-র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক।

View Full Author Profile →

বিজ্ঞাপন

আরও খবর