এক দিনের ব্যবধানে ফের কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলার অভিযোগ। শনিবার উত্তরপাড়ায় গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছিল। রবিবার সকালে নিজের বিধানসভা কেন্দ্র বেলেঘাটায় একই ধরনের অভিযোগ করলেন তৃণমূল বিধায়ক। তাঁর দাবি, বাড়ি থেকে বেরোনোর পর কয়েক জন রিভলভার হাতে তাঁকে অনুসরণ করেন। নারকেলডাঙা পর্যন্ত গাড়ি ধাওয়া করে পাথর ছোড়া হয়। হাতুড়ি দিয়ে গাড়ির কাচ ভাঙারও চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ কুণালের।
রবিবার সকালে বেলেঘাটার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন কুণাল। তাঁর দাবি, বাড়ি থেকে বেরোনোর পর থেকেই কয়েক জন তাঁকে অনুসরণ করতে শুরু করেন। গাড়ির সামনে এবং পিছনের কাচ লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ তাঁর। পরে হাতুড়ি দিয়ে কাচ ভাঙার চেষ্টা করা হয়।
কুণালের দাবি, নারকেলডাঙার কাছে কয়েকটি বাইক তাঁর গাড়িকে ওভারটেক করে পথ আটকে দাঁড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁর নিরাপত্তারক্ষীদের রিভলভার বার করতে হয় বলে জানিয়েছেন বিধায়ক। তাঁর আরও অভিযোগ, কয়েক জন তাঁর কলার চেপে ধরেছিলেন।
ঘটনার পর নারকেলডাঙা থানায় যান কুণাল। সেখানেই অভিযোগ জানানোর কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, তাঁকে প্রাণে মারার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন বেলেঘাটার বিধায়ক। তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া কয়েক জনের দিকেও সন্দেহের আঙুল তুলেছেন তিনি।
কুণালের বক্তব্য, ‘‘বিজেপি আমায় মেরে ফেলবে। তবু আমার কণ্ঠরোধ করা যাবে না।’’ এর আগে শনিবারও তাঁর গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় কুণাল দাবি করেছিলেন, শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় যাওয়ার পথে উত্তরপাড়ায় তাঁর গাড়ি আটকে পাথর, রড এবং ডিম ছোড়া হয়। গাড়ির পিছনের কাচ ভেঙে যায় বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
শনিবারের ঘটনার পর গাড়ি নিয়ে ভবানী ভবনের সামনে গিয়েছিলেন কুণাল। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও তুলেছিলেন তিনি। তাঁর দাবি ছিল, মমতার সভায় যাতে তিনি পৌঁছতে না পারেন, সে কারণেই গাড়িতে হামলা করা হয়েছিল।
দু’দিনের ঘটনায়ই বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন কুণাল। তবে রবিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলের মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, বিজেপি কেন বিধায়কের উপর হামলা করতে যাবে। তাঁর পাল্টা দাবি, এই ঘটনার পিছনে তৃণমূলের লোকজন থাকতে পারেন। বিজেপি সাংসদ রাহুল সিংহও শনিবারের ঘটনার পরে একই ধরনের দাবি করেছিলেন।
রবিবারের ঘটনার পিছনে কারা ছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কুণালের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে, এখন সেটাই দেখার। আপাতত প্রকাশ্যে এসেছে বিধায়কের অভিযোগ এবং বিজেপির পাল্টা বক্তব্য। হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, তদন্তে তা স্পষ্ট হবে।



