বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে আবারও সরব হলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। এবার তাঁর প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভু (Chinmoy Krishna Das Prabhu)। তসলিমা সম্প্রতি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন এবং লেখেন—
“চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে মুক্তি দিন, ইউনুস সাহেব। আপনি তো ভালো কাজ করতে জানেন না মনে হয়, অন্তত শিখতে তো পারেন।” এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই হাজার হাজার ভারতীয় নেটিজেন তাতে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন নেটিজেনরা।


চার মাস ধরে বন্দি, গুরুতর অসুস্থ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস!
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভু চার মাস ধরে মিথ্যা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বন্দি রয়েছেন। তিনি বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ এবং হৃদযন্ত্র (হার্ট), লিভার ঠিকমতো কাজ করছে না। বাংলাদেশের হিন্দু সমাজের অন্যতম আইকন এই সন্ন্যাসী প্রতিবাদে অন্ন-জল ত্যাগ করেছেন। বাংলাদেশের সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের আশঙ্কা, ১৫ দিনের মধ্যে মুক্তি না পেলে তাঁর জীবন সংকটে পড়তে পারে। হিন্দু সন্ন্যাসীকে অন্যায়ভাবে জেলে আটক রেখে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
হিন্দু নেতাদের প্রতিবাদ, ভারতের হস্তক্ষেপের দাবি


চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর মুক্তির দাবিতে এবার পদ্মশ্রী কার্তিক মহারাজ, ইসকনের কলকাতা প্রধান রাধারমন দাস ও অন্যান্য সাধু-সন্তরা সরব হয়েছেন।
কার্তিক মহারাজের মন্তব্য: “এভাবে একজন সন্ন্যাসীকে মিথ্যা মামলায় বিনা বিচারে জেলে আটকে রাখা হয়েছে। এটি অত্যন্ত গর্হিত কাজ। সঠিক চিকিৎসা না করিয়ে তাঁকে মেরে ফেলা বাংলাদেশের হিন্দুদের জন্য সতর্কবার্তা।” তিনি আরও বলেন—ভারত সরকার যেন বাংলাদেশের উপর চাপ সৃষ্টি করে চিন্ময় প্রভুর মুক্তির জন্য পদক্ষেপ নেয়। প্রয়োজনে আমেরিকা প্রশাসনের সঙ্গেও আলোচনায় বসুক ভারত সরকার।
বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতনের ঘটনা বাড়ছে?
বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতন, মন্দির ভাঙচুর, সম্পত্তি দখল এর ঘটনা নতুন কিছু নয়। কিন্তু চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুর ঘটনা আবারও সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টি সামনে তুলে এনেছে। এখন প্রশ্ন একটাই— বাংলাদেশ সরকার কি এই সন্ন্যাসীর প্রাণ বাঁচানোর জন্য কোনও পদক্ষেপ নেবে? নাকি নিরব দর্শকের ভূমিকায় থাকবে?







