তারাতলা ছাদ ধস কাণ্ডে ক্রমশ বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। বুধবার রাতভর উদ্ধার অভিযান চালানোর পর বৃহস্পতিবার সকালে ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে আরও দু’জনের দেহ উদ্ধার হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭। এখনও উদ্ধারকাজ চলছে ঘটনাস্থলে। একইসঙ্গে ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে উচ্চস্তরের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে প্রশাসন।
বুধবার তারাতলার একটি গোডাউনের ছাদ আচমকা ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে গোটা এলাকা পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে লোহার বিম, কংক্রিটের চাঙড় ও নির্মাণসামগ্রীর স্তূপ। ধসের সময় বহু শ্রমিক ও কর্মী ভিতরে আটকে পড়েছিলেন বলে জানা যায়।
রাতভর উদ্ধারকারী দল, পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালায়। বৃহস্পতিবার সকালেও সেই উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এখনও পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে মোট ৩১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ২৫ জন আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তে গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল বা SIT। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) কুণাল আগরওয়ালের নেতৃত্বে এই তদন্তকারী দল কাজ শুরু করেছে। কী কারণে গোডাউনের ছাদ ভেঙে পড়ল, নির্মাণে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না— সব দিকই খতিয়ে দেখা হবে বলে সূত্রের খবর।
প্রশাসনিক মহলেও এই ঘটনা নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিধানসভায় এ বিষয়ে বিবৃতি দেওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র। উদ্ধারকাজের অগ্রগতি, আহতদের চিকিৎসা এবং তদন্তের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তিনি বিস্তারিত জানাতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
তারাতলার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা শহরের শিল্পাঞ্চলগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসনের নজর এখন একদিকে যেমন আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার করা, অন্যদিকে তেমনই দ্রুত তদন্ত সম্পূর্ণ করে দায় নির্ধারণ করা।









