তারাতলার গুদাম ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। বুধবার সন্ধ্যায় এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, এখনও পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও বহু শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই কারণেই রাতভর উদ্ধার অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত মোট ২৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন বিপন্মুক্ত রয়েছেন। দু’জন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন এবং পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এখনও কতজন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়।
এই পরিস্থিতিতে শ্রমিক নিয়োগ ও সরবরাহকারী সংস্থার ভূমিকা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারকে শ্রমিক সরবরাহকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দুর্ঘটনার সময় প্রকৃতপক্ষে কতজন শ্রমিক সেখানে কাজ করছিলেন এবং কতজন এখনও নিখোঁজ, তার সঠিক হিসাব পাওয়া সম্ভব হবে।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, কর্মরত শ্রমিকদের অধিকাংশই বিহারের বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে মুঙ্গের জেলার বাসিন্দা। ফলে তাঁদের পরিচয় এবং উপস্থিতির তালিকা যাচাই করা এখন প্রশাসনের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
উদ্ধারকাজে কোনও রকম খামতি রাখা হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব সরাসরি উদ্ধার অভিযানের তদারকি করবেন। তাঁদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবেন পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা।
পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগও সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসএসকেএম হাসপাতাল-সহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে বিশেষ মেডিক্যাল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু হওয়ায় সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়েছে। তবে প্রশাসনের এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হল, ধ্বংসস্তূপের নীচে যদি এখনও কেউ জীবিত অবস্থায় আটকে থাকেন, তাহলে তাঁদের যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদে উদ্ধার করা।
এদিকে, ঘটনাস্থল এবং এসএসকেএম হাসপাতাল চত্বরে উদ্বিগ্ন পরিজনদের ভিড় ক্রমশ বাড়ছে। কেউ খুঁজছেন নিজের বাবাকে, কেউ ভাই বা পরিবারের অন্য সদস্যকে। শ্রমিকদের সঠিক খোঁজ না পাওয়ায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সাধারণ মানুষকে তথ্য পৌঁছে দিতে নবান্নের তরফে চারটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। নম্বরগুলি হল— ১০৭০, ৮৬৯৭৯৮১০৭০, ০৩৩-২২১৪৩৫২৬ এবং ০৩৩-২২৫৩৫১৮৫।
তারাতলা বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ এবং দায় কার, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে আপাতত প্রশাসনের মূল লক্ষ্য উদ্ধার অভিযান সম্পূর্ণ করা এবং নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধান পাওয়া।









