তারাতলায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা! নির্মীয়মাণ গোডাউনের ছাদ ধসে ধ্বংসস্তূপে আটকে বহু শ্রমিক, নবান্নে কন্ট্রোল রুম

তারাতলায় নির্মীয়মাণ পরিবহণ দফতরের গোডাউনের ছাদ ভেঙে পড়ায় ধ্বংসস্তূপে আটকে বহু শ্রমিক। উদ্ধারকাজে পুলিশ, দমকল, এনডিআরএফ ও প্রশাসন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তারাতলায় বড়সড় দুর্ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল বুধবার। নির্মীয়মাণ একটি গোডাউনের ছাদ আচমকাই ভেঙে পড়ায় ধ্বংসস্তূপের নীচে একাধিক শ্রমিক আটকে পড়েছেন বলে আশঙ্কা। ইতিমধ্যেই উদ্ধারকাজে নেমেছে পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে নবান্নে খোলা হয়েছে বিশেষ কন্ট্রোল রুম।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তারাতলা এলাকায় পরিবহণ দফতরের একটি নির্মীয়মাণ গোডাউনের শেড ভেঙে পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় সেখানে নির্মাণকাজ চলছিল বলে জানা গিয়েছে। আচমকা ছাদ ধসে পড়তেই কর্মরত শ্রমিকদের একাংশ ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়েন।

উদ্ধারকারী দল সূত্রে খবর, এখনও পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নীচে ১০ থেকে ১২ জন আটকে থাকতে পারেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। তবে সঠিক সংখ্যা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন। দুর্ঘটনাস্থলে ক্রেন, গ্যাস কাটার এবং অন্যান্য ভারী সরঞ্জাম এনে কংক্রিট ও লোহার বিশাল কাঠামো সরানোর কাজ চলছে।

এদিকে, আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের অবিলম্বে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবাও সক্রিয় করা হয়েছে। ট্রমা কেয়ার ইউনিটকেও প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে সরাসরি নবান্ন থেকে উদ্ধারকাজের তদারকি করা হচ্ছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সাধারণ মানুষের সহায়তার জন্য কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের নম্বরগুলি হল— 1070, 8697981070, 033-22143526 এবং 033-22535185।

ইতিমধ্যেই অন্তত আটজন আহতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। তবে ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধারকাজে গতি আনতে রাজ্য সরকারের তরফে এনডিআরএফ-এর সহায়তাও চাওয়া হয়েছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযানে যোগ দিচ্ছেন।

তারাতলা দুর্ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনের অন্দরেও। ধ্বংসস্তূপ সম্পূর্ণ সরানোর পরই প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আটকে পড়া ব্যক্তিদের নিরাপদে উদ্ধার করাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর